উধাও এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে গভীর সাগরে তলিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার স্থান জাভা সাগরে তেলের ভাসমান দুটি স্পট ও কিছু বস্তু শনাক্ত হওয়ায় এ ধারণা দানা বেঁধেছে।
এদিকে বিমানটির অনুসন্ধান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর গতকাল সোমবার সকাল থেকে শুরু করে রাতে আবারও স্থগিত করা হয়েছে। খবর বিবিসি, এপি ও এএফপির।
গত রোববার ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহর থেকে ১৬২ জন আরোহী নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১। ওই দিন ভোর ৬টা ২০ মিনিটে যাত্রাপথের প্রায় মাঝামাঝি গিয়ে নিখোঁজ হয় এটি। ওড়ার ঘণ্টা খানেক পর এয়ারবাস কোম্পানির এ৩২০-২০০ উড়োজাহাজটির সঙ্গে বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে এটি থেকে কোনো বিপৎসংকেত আসেনি।
ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিসতিয়ো বলেন, সমন্বয়কারী ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা অনুযায়ী, এর অবস্থান এখন সাগরতলে।
এদিকে অন্ধকার নেমে আসায় রোববার রাতের জন্য বিমানটির অনুসন্ধান অভিযান স্থগিত করার পর গতকাল সেটি ফের শুরু হয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানটিকে শনাক্ত করা বা এর সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ মেলেনি।
গতকাল ইন্দোনেশীয় বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ও রাষ্ট্রীয় বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের পরিচালক হাদি টিজাহনানতো বলেন, ইন্দোনেশিয়ার হেলিকপ্টার থেকে সাগরে বেলিতুং দ্বীপের কাছে কিছু ভাসমান তেলের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অভিযানে এ স্থানে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি নিখোঁজ বিমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তেলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার অনুসন্ধান বিমান থেকে কালিমান্তান দ্বীপের প্রায় এক শ মাইল দূরে নাঙ্গকা দ্বীপের কাছে কিছু সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সাগরের যে স্থানে উড়োজাহাজটির সঙ্গে বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তেলের উপস্থিতির স্থানটি তুলনামূলকভাবে সেটির বেশি কাছাকাছি।
এ বক্তব্যের পর ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জুসুফ কাল্লা বলেন, নিখোঁজ বিমানের সঙ্গে এসব বস্তুর সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। জুসুফ জানান, অনুসন্ধান অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৩০টি জাহাজ ও ১৫টি বিমান অংশ নিচ্ছে। এ অভিযানে অংশ নিতে সাগরের মৎস্যজীবীদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিমান মুখপাত্র হাদি জানান, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে বিমানটির ককপিটের (চালকের স্থান) সর্বশেষ যে যোগাযোগ হয়, তাতে চালকদের একজন খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানের ওড়ার উচ্চতা ৩২ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩৮ হাজার ফুট করার অনুমতি চান। কিন্তু ওই আকাশপথে অন্য একটি বিমান উড়তে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু যে মুহূর্তে অনুমতি দেওয়া সম্ভব হতো তখন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানটি নিয়ে কিছু তথ্য: এয়ারএশিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইন্দোনেশীয় নাগরিক ইরিয়ান্তো ছিলেন নিখোঁজ বিমানের ক্যাপ্টেন। তাঁর সঙ্গের সহযোগী পাইলট ছিলেন একজন ফরাসি। ক্যাপ্টেন ইরিয়ান্তোর ছিল ২০ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় বিমানচালনার অভিজ্ঞতা। তাঁর সহযোগীর অভিজ্ঞতা ছিল ২ হাজার ২৭৫ ঘণ্টার। নিখোঁজ বিমানটি ২০০৮ সালের অক্টোবরে এয়ারএশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৩ হাজার ৬০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এই বিমান। গত ১৬ নভেম্বর সর্বশেষ এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন