default-image

লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী এক পর্যালোচনা বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজ্যে জোর বিতর্ক চলছে।

গত শনিবার কলকাতায় মমতার কালীঘাট বাড়ির অফিসে নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে মমতা বলেন, ‘আমি ইফতারে যাচ্ছি। ১০০ বার যাব। যে গরু দুধ দেয়, তার লাথি খাওয়া ভালো।’

মমতার মন্তব্যে সংখ্যালঘু মুসলিমদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়। তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা তাহলে মুসলিমদের গরুর সঙ্গে তুলনা করছেন?

কলকাতার সংখ্যালঘু মুসলিম নেতা মহম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী জেনেশুনে বিজেপি ও আরএসএসকে খুশি করতে এখন মুসলিমদের অবহেলা করছেন। লোকসভা ভোটে তিনি মুসলিমদের প্রচুর ভোট পেয়েছেন। বিনিময়ে মুসলিমরা কী পেয়েছে?

মহম্মদ কামরুজ্জামানের প্রশ্ন, ইফতারের নাটক করলে মুসলিমদের কী উন্নয়ন হয়? এবার বিধানসভা ভোটে মুসলিমরাও বুঝিয়ে দেবে, গরুর লাথি কাকে বলে?

রাজ্যের অপর এক মুসলিম নেতা বলেছেন, এটা লজ্জার ব্যাপার যে মুখ্যমন্ত্রী গরুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

রাজ্যের অনেক মুসলিম বলছেন, মমতা সংখ্যালঘু দপ্তরের অর্থে কিছু কাজ করেছেন। দু-একটা কাজ করে তিনি মুসলিমদের ভোট নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে সব মুসলিমদের উন্নয়ন হয় না।

মমতা মুসলিমদের জন্য কী করেছেন, তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন কেউ কেউ।

মুসলিমদের মধ্যে অনেকে অবশ্য মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বলছেন, মমতা উপমা হিসেবে কথাটি (গরুর লাথি) বলেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যাঁরা ভোট দেন, তাঁদের কথা তাঁর ভাবা উচিত। মমতা মূলত ভালোবেসে ওই মন্তব্য করেছেন।

মমতার মন্তব্যের নিন্দা করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলী হোসেন ও রাজ্য সম্পাদক কাসেম আলী বলেছেন, তৃণমূল মুসলিমদের জন্য কিছুই করেনি। শুধু তাদের ভোটব্যাংক করে রেখেছে। ইফতারে গিয়ে নাটক করলে মুসলিমদের উন্নয়ন হয় না। সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হয়। সংখ্যালঘুদের জন্য নানা উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হয়। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে আজও মুসলিমরা পিছিয়ে। তাঁরা মিথ্যে ভাষণ ছেড়ে মমতাকে মুসলিমদের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0