বিজ্ঞাপন

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। সে কারণে তাদের সেনাদের উচিত হবে ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া’।

এদিকে গাজায় আরও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এবার ব্যাংক ও গোয়েন্দা ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তারা। অপর দিকে গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া অব্যাহত রয়েছে।

আইডিএফ বলছে, গাজা শাসনকারী হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়ের বাসভবনের কাছের একটি জেনারেটরে ইতিমধ্যে হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে কাতারে আছেন ইসমাইল হানিয়ে।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গাজায় অন্তত ৮৪ জন এবং ইসরায়েলে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলা বুধবার রাতে তীব্র হয়।

default-image

ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান থেকে গাজায় হামাসের নানা স্থাপনা, পুলিশ ভবন ও অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে বোমা ফেলা হয়। অপর দিকে গাজা থেকে প্রায় দেড় হাজার রকেট ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সাত সপ্তাহের যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত হচ্ছে।

সংঘাতের শুরু যেখান থেকে

ইসরায়েলের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা থেকে এবারের সংঘাতের শুরু। এই পরিবারগুলো যেখানে বসবাস করছে, তার প্রকৃত মালিক ইহুদিরা বলে দাবি করে আসছে গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষের বেশ কয়েকটি সংগঠন। ১৯৭২ সাল থেকে আদালতে অনেকগুলো মামলা দায়ের করেছে তারা।

ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে দেখছে জেরুজালেম থেকে তাঁদের বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে।

এ নিয়ে এপ্রিলের শেষ দিক থেকে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ছোটখাটো সংঘর্ষ হতে থাকে।

default-image

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলি আদালতের এক আদেশে চারটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। ২ মে তাদের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। পরে দুই দফায় আদালতের ওই আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। পরিবারগুলো আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সুপ্রিম করে আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল এর মধ্য। পরে তা পিছিয়ে গেছে।

সম্প্রতি ওই পরিবারগুলোতে ইফতারের জন্য ফিলিস্তিনিরা জড়ো হলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত এবং ১৫ জন গ্রেপ্তার হন।

আল-আকসায় সংঘর্ষ

এর পরদিন শুক্রবার জুমাতুল বিদার দিন আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন হাজার হাজার মুসল্লি। সেখানে ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেন অনেকে।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। অপর দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারী। এই সংঘাতে ২০৫ জন ফিলিস্তিনি এবং ১৭ ইসরায়েলি পুলিশ সদস্য আহত হন।

টানা দুই-তিন দিন পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষের পর সোমবার আল-আকসায় সাঁড়াশি অভিযান চালান ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের হটাতে রাবার বুলেট, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তারা। এতে প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনি আহত হন। অপর দিকে ইসরায়েলি বাহিনীরও প্রায় ২০ সদস্য আহত হন।

এরপর হামাস ইসরায়েলকে আল-আকসা মসজিদ চত্বর এবং শেখ জারাহ এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের জন্য সময় বেঁধে দেয়।

ইসরায়েলি বিমান হামলা, হামাসের রকেট নিক্ষেপ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার ভোর নাগাদ হামাস ইসরায়েলের দিকে প্রায় ২০০ রকেট নিক্ষেপ করে। সেগুলোর অধিকাংশই ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটকে দেয়। ইসরায়েলি সীমান্তেও রকেট গিয়ে পড়ে, তাতে দেশটির দুজন নাগরিক নিহত হন।

default-image

এর মধ্যে শুরু হয়ে যায় ইসরায়েলের বিমান হামলা। গাজায় হামাস নেতাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনায় চলে বোমা নিক্ষেপ। এতে শিশুসহ অন্তত ২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বেল মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক মহল থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার গাজায় হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। অপর দিকে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল হামলা বাড়ালে তাঁরা প্রতিহত করবেন। আর ইসরায়েল এটা বন্ধ করতে চাইলে তাঁরা তাতেও রাজি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন