default-image

কাৎসুহিকা হোকুসাই, জাপানের উড-ব্লক ছাপচিত্রের অন্যতম সেরা শিল্পী। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিক থেকে ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত জাপানে বিস্তৃত ছিল এদো যুগ। ওই আমলে হোকুসাইয়ের আঁকা ‘ফুজি পাহাড়ের ৩৬টি দৃশ্য’ সিরিজকে তাঁর সেরা সৃষ্টি বিবেচনা করা হয়। জাপানিদের কাছে হোকুসাই খুবই সমাদৃত ব্যক্তি। এত বছর পরে এসে চীনের সঙ্গে বিরোধে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন এ শিল্পী। জাপানের একটি উদ্যোগের প্রতিবাদে হোকুসাইয়ের শিল্পকর্ম ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং।

২০১১ সালে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সুনামি হয়েছিল। সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ফুকুশিমা দাই-ইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের চুল্লি শীতল করার কাজে ব্যবহার হওয়া তেজস্ক্রিয় মিশ্রিত পানি সাগরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। জাপানের এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলো। তাদের মতে, জাপানের এ সিদ্ধান্ত হঠকারী। এতে সাগরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হবে। একই সঙ্গে জাপানের প্রতিবেশী দেশগুলোর জনস্বাস্থ্যের ওপরও তা মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞাপন

জাপান অবশ্য এমন যুক্তি মানতে নারাজ। দেশটির সরকার বলছে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করার পরই তেজস্ক্রিয় মিশ্রিত পানি সাগরে ফেলা হবে। তাই এসব পানি ঝুঁকিমুক্ত। সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতির কারণ হবে না। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে দুই বছরের মধ্যে এসব পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলা হবে।
জাপানের এমন অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেশটি বেছে নিয়েছে হোকুসাইয়ের ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান তাঁর নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেছেন। এ পোস্টে তিনি ‘ফুজি পাহাড়ের ৩৬টি দৃশ্য’ সিরিজের একটি শিল্পকর্ম কিছুটা রদবদল করে নিয়ে যুক্ত করেছেন।

সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, উত্তাল ঢেউয়ের পেছনেই রয়েছে ফুজি পাহাড়। ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নৌকায় বসে থাকা কয়েকজন সাগরে দূষিত জিনিস ফেলছেন। তেজস্ক্রিয়তার চিহ্নযুক্ত এসব দূষিত জিনিস যে ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয়তা মিশ্রিত পানি, তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। পোস্টের ক্যাপশনে ঝাও লিজিয়ান লিখেছেন, ‘মূল ছবির শিল্পী হোকুসাই আজ বেঁচে থাকলে জাপানের তেজস্ক্রিয় মিশ্রিত পানি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন হতেন।’

অত্যন্ত সম্মানিত একজন শিল্পীর শিল্পকর্ম ব্যবহার করে এভাবে ব্যঙ্গ করার ঘটনায় বিরক্ত জাপান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে জাপানের সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছে। প্রতিবাদ জানিয়ে টুইটার থেকে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে জাপানের এমন আহ্বানে চীনের পক্ষ থেকে সাড়া মিলেনি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন