default-image

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবিকৃত কয়েকটি দ্বীপের কাছে আজ বুধবার নোঙর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি রণতরি। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় দেশটির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরালো করেছে জো বাইডেনের প্রশাসন। সিএনএনের খবর।

কথিত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার নামে গাইডেড-মিসাইল সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাসেল’ দক্ষিণ চীন সাগরের স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জের ১২ নটিক্যাল মাইলের ভেতর মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। যে জলসীমার ভেতর ডেস্ট্রয়ারটি মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানে চীন তার সার্বভৌমত্বের দাবি করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জো কেইলে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানের আরোপ করা বেআইনি নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই নৌপথের ওপর অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং এটির বৈধ ব্যবহার সমুন্নত রাখাই হলো এই নৌ–চলাচলের স্বাধীনতার (এফওএনওপি) লক্ষ্য।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে চীন-তাইওয়ান উত্তেজনার মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি এই সাগরে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের একটি বহর। ওই সময়ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ‘সমুদ্রে অবাধ বিচরণ’ নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজগুলো ওই সাগরে ঢুকেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন এক সময় ওই পদক্ষেপ নেয়, যখন চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। কারণ, ওই দিনই তাইওয়ান জানায়, চীনের যুদ্ধবিমানের একটি বহর এ অঞ্চলের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রণতরি ঢোকার ঘটনা ছিল সেটিই প্রথম। এর আগে সদ্য বিদায় নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে বাণিজ্যযুদ্ধ ও করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ঢুকে পড়ার ঘটনা।

এই সাগরের সিংহভাগ এলাকা চীন নিজের বলে দাবি করে। তবে ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ আরও কয়েকটি দেশ এ সাগরের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করছে।
ইতিমধ্যে চীন বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এমন তৎপরতা এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে এবং তার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী ওই মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এবং ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন