ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে তাঁর দেশের সার্বিক চুক্তির সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ভিডিও বিনিময়ের অনলাইন মাধ্যম ইউটিউবে গত শুক্রবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন জারিফ। খবর বিবিসির।
৭ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন দুই পক্ষের আলোচকেরা। জাভেদ জারিফ তাঁর বার্তায় বলেন, সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের মতো একটি বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে নতুন পথের সন্ধান দিতে পারে।
জাফরির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও স্বীকার করেছেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাফরি তাঁর বার্তায় পরমাণু আলোচনায় ‘দমনমূলক আচরণ ও চাপ’ প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তৈরি।
রাশিয়ার পক্ষে পরমাণুবিষয়ক আলোচনায় থাকা সের্গেই রিবকভ বলেন, চুক্তির খসড়া ৯০ শতাংশের বেশি তৈরি হয়ে গেছে।
পি ৫+১ নামে পরিচিত জোট যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানি চাইছে, ইরান তার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করুক। এসব দেশের সন্দেহ ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইরান চাইছে, এই চুক্তির বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলেও বরাবর দাবি করে আসছে ইরান।
হিলারির প্রত্যাশা: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ১৮ মাস ধরে ইরান ও পরাশক্তিগুলোর মধ্যে চলা পরমাণু-সংক্রান্ত আলোচনার ফল পাওয়া যাবে। শিগগিরই একটি চুক্তি হবে।
হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়েই ইরানের সঙ্গে পাশ্চাত্যের পরমাণু আলোচনার প্রাথমিক ভিত্তি রচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি এই চুক্তি নিয়ে এর আগ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0