default-image

তাইওয়ানে নবদম্পতিদের আট দিনের ছুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই আইনের সুযোগে নিজেদের মধুচন্দ্রিমা দীর্ঘায়িত করতে এক নবদম্পতি অভিনব এক কৌশল কাজে লাগিয়েছেন। তাঁরা ৩৭ দিনের মধ্যে চারবার বিয়ে ও তিনবার বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ধরা ঠিকই পড়তে হয়েছে তাঁদের।

তাইওয়ানের শ্রম দপ্তর গতকাল বুধবার ঘটনাটির কথা জানিয়েছে। তবে ওই নবদম্পতির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। শুধু জানিয়েছে, ওই নবদম্পতির পুরুষ সদস্যটি ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।

শ্রম দপ্তর জানায়, তাইওয়ানের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নবদম্পতিদের আট দিনের ছুটি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এই আইনের একটা ফাঁক রয়েছে। এতে বলা নেই, সর্বনিম্ন কত দিনের মধ্যে একজন কর্মী পরবর্তী বিয়ের জন্য ছুটি চাইতে পারবেন না।

ওই ব্যাংক কর্মকর্তা গত বছর বিয়ে করেন। এ উপলক্ষে তিনি আইন অনুযায়ী আট দিনের ছুটি পান। এরপর ছুটি দীর্ঘায়িত করতে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা আবার তাঁকেই বিয়ে করেন। এভাবে ৩৭ দিনের মধ্যে ওই দম্পতি চারবার বিয়ে ও তিনবার বিচ্ছেদ ঘটান।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান আট দিনের বেশি ছুটি দিতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তাইপে সিটি শ্রম দপ্তরে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়ে শ্রম দপ্তর ওই ব্যাংককে ছুটির বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ৬৭০ মার্কিন ডলার জরিমানা করে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তি আইনের ‘অপব্যবহার’ করেছেন।

এ নিয়ে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনারও সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অবিশ্বাস্য। এই ব্যক্তি বিয়ে আর বিচ্ছেদকে যেন খেলা হিসেবে নিয়েছেন। তিনি যদি প্রতিদিনই বিয়ে আর বিচ্ছেদ ঘটান, সে ক্ষেত্রে কী হবে? তাঁকে বিয়ে উপলক্ষে ছুটি না দিয়ে অসুস্থতার জন্য ছুটি দেওয়া উচিত।’

তাইপে শ্রম দপ্তর বিবৃতিতে বলেছে, বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর গত সপ্তাহে ওই ব্যাংকের জরিমানার দণ্ড প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সমালোচনার মুখে ওই কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। তবে তিনি ছুটির দাবি ছাড়েননি। শ্রম দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই ব্যক্তি চাকরি ছাড়ার পরও বলেছেন, সাবেক প্রতিষ্ঠানের কাছে এখনো তাঁর ২৪ দিনের ছুটি পাওনা রয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন