default-image

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে আজ শনিবার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে জান্তা সরকারের সমালোচনার জন্য বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের নাউ নিউজের খবরে জানানো হয়, মনিওয়া শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হন। বাগো শহরে আরও একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। থাটন শহরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একজনকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে জানান, মনিওয়া শহরে একের পর এক গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চলছে। বিক্ষোভকারীরা যখন পিছু হটতে শুরু করে, তখন একজনের মাথায় গুলি এসে লাগে। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ বিষয়ে পুলিশ ও জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মিয়ানমারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার পরে তাঁদের ওপর সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল। কেএনইউ বলছে, বিমান হামলার কারণে ১২ হাজারেরও বেশি গ্রামবাসী ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। কেএনইউ জান্তা সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েক দিনে কেএনইউ–অধ্যুষিত এলাকায় বিমান হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

দ্য অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) স্থানীয় সময় আজ বলেছে, দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী এ পর্যন্ত ৫৫০ জনকে হত্যা করেছে। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন শিশু। গতকাল শুক্রবার নিহত হয়েছেন দুজন। জান্তা সরকারের দমনপীড়নের মুখেও প্রতিদিন মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন করে বিক্ষোভ জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার মোবাইল ডেটা বন্ধ করে দিয়েছে। গতকাল থেকে ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের ব্রডব্যান্ড সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিয়ানমারের সরকারি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে। তাঁদের মধ্যে সামাজিক গণমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুজন সাংবাদিক রয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই সেনাশাসনের বিরুদ্ধে। অভিনেত্রী পিয়াং পিহোয়ে থু বলেন, ‘আমি কারও ভয়ে ভীত নই। পরোয়ানা জারি হোক বা না হোক, যত দিন বেঁচে আছি, আমি সেনাশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। সেনারা মানুষ হত্যা করছে। বিপ্লব অবশ্যই সফল হবে।’

পিহোয়ে থু তাঁর পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিতে পেরেছেন কি না, তা নিশ্চিত না। মিয়ানমারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা আজ সকালের দিকে যুক্ত হতে পারেননি।

যে আইনে পিহোয়ে থুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, সেই একই আইনে তাঁর স্বামী চলচ্চিত্র পরিচালক না গিও জান্তা সরকারের তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে আসামির তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
জান্তা সরকার ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেও নিজেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। সরকারি গণমাধ্যম এমআরটিভি পরোয়ানা জারির ঘোষণা দেয়। এরপর স্ক্রিনশট ও লিংকগুলো ফেসবুক প্রোফাইলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমআরটিভি ইউটিউব চ্যানেল ও টুইটারে তাদের প্রচার চালাচ্ছে; যদিও মিয়ানমারে এ দুটিই বন্ধ।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন