default-image

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সমর্থকেরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গতকাল সারা রাত বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রথম যে চিকিৎসক কাজে যোগ দেননি, তিনিও ছিলেন। আটকের প্রতিবাদে মিয়ানমারের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলে।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বলেছে, তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য প্রচার কমিয়ে দেবে। ফেসবুক বলছে, জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকে ভুল তথ্য প্রচার করছে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর আজ শুক্রবার সু চির সমর্থকেরা আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁরা এই নিষেধাজ্ঞাকে যথেষ্ট মনে করছেন না।

এনএলডির সমর্থকেরা বলছেন, গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডির বিপুল জয় স্বীকার করতে বাধ্য করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা থেকে হটাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা দরকার।

মোয়ে থাল নামের সু চির এক সমর্থক বলেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে তাঁরা দিন-রাত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাই মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁরা আরও বেশি পদক্ষেপ আশা করছেন।

মোয়ে থাল বলেন, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব এই অবস্থার শেষ চান। এ জন্য মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও জেনারেলদের বিরুদ্ধে আরও শাস্তি-ব্যবস্থা দরকার।

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর প্রথম দফার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতারা তাঁদের নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আজ বিশেষ বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল।

মিয়ানমারের রাজনীতিকসহ গণতন্ত্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় জোরদার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশটির মানুষ টানা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। গতকাল দেশটিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভকারীদের দমাতে ধরপাকড়, মারধর, গ্রেপ্তারসহ বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার।

১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এই সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করেছে জান্তা সরকার। তারা গ্রেপ্তার করেছে অং সান সু চিসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন