জাপানের অলিম্পিক দলে বেড়েছে মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড়

অশ্বেতাঙ্গ বাস্কেটবল খেলোয়াড় রুই হাচিমুরা বহন করবেন জাপানের পতাকা।
ছবি: এএফপি

বর্ণসমতার দিক থেকে জাপান যথেষ্ট পিছিয়ে। এ রকম অভিযোগ পশ্চিমে প্রায়ই শোনা গেলেও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর থেকে বর্ণসমতায় অনেকটাই এগিয়েছে জাপান। টোকিও অলিম্পিকে জাপানের রেকর্ডসংখ্যক ৫৮২ জন অ্যাথলেট যোগ দেবেন। এ দলে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড়।

জাপানে শুধু যে খেলাধুলায় মিশ্রবর্ণের ব্যক্তিরা এগিয়েছেন এমনটা নয়, মিশ্রবর্ণের পরিবারের সন্তানেরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে আলোচিত হচ্ছেন। এ ছাড়া জাপানি নাগরিককে বিয়ে করে অনেকেই সম্প্রতি এ দেশে বসবাস শুরু করছেন।

মা–বাবার মধ্যে একজন শ্বেতাঙ্গ নন—অতীতে এমন অনেক পরিবার বৈষম্যের শিকার হলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলে গেছে। তবে এর পেছনে সবটাই যে কেবল জাপানের সদিচ্ছার প্রকাশ, তা অবশ্য নয়। অশ্বেতাঙ্গ কাউকে বিয়ে করে পরিবার গড়ে তোলার পর জাপানে যাঁরা থেকে গেছেন, সে রকম পরিবারের অনেক সন্তান নিজগুণে প্রতিভার ছাপ রেখে যাচ্ছেন। ফলে, এমন পরিবারের সন্তানদের সমাজে গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। যেমন বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের মেয়ে লোরা জাপানে এখন পরিচিত নাম।

এ ছাড়া নাওমি ওসাকার কথাই বলা যেতে পারে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই নারী টেনিস তারকা বেশ কয়েকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে জাপানের জন্য সুনাম নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড় সম্প্রতি জাপানে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

এর প্রভাব পড়ছে অলিম্পিকেও। চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া টোকিও অলিম্পিকে জাপানের যে রেকর্ডসংখ্যক ৫৮২ জন অ্যাথলেট যোগ দেবেন, এ দলে মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড় রয়েছেন বেশ কয়েকজন। যাঁদের মধ্যে কয়েকজন পদক পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী।

জাপানের জাতীয় ফুটবল ও বাস্কেটবল দলেও মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড় রয়েছেন। এ দলে কিছুদিন আগপর্যন্ত শ্বেতাঙ্গদের প্রাধান্য থাকলেও আজকাল আর তেমনটি নেই। জাপানের জনগণের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া সংগঠনগুলোও একে এখন সহজভাবে নিচ্ছে এবং স্বীকৃতি প্রদানে কার্পণ্য করছে না।

এদিকে আগের অলিম্পিকগুলোয় একজন ক্রীড়াবিদ পতাকা বহন করলেও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আইওসি নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে প্রতিটি অলিম্পিকে যেন দুজন ক্রীড়াবিদ দেশের পতাকা বহন করেন। এই দুজনের একজন হবেন পুরুষ এবং অন্যজন নারী। খেলাধুলার সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে আইওসির এই নির্দেশনা। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানি একজন নারী ও একজন পুরুষ এই দায়িত্ব পালন করবেন।

অলিম্পিকে যেকোনো দেশের জাতীয় দলের ক্যাপ্টেনের পাশাপাশি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকাবাহককে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়। জাপানের অলিম্পিক কমিটি যে দুজন ক্রীড়াবিদকে ২৩ জুলাইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকাবাহক হিসেবে মনোনীত করেছে, তাঁরা হলেন জাতীয় দলের বাস্কেটবল খেলোয়াড় রুই হাচিমুরা এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ নারী কুস্তিগির ইয়ুই সাসাকি।

২২ বছর বয়সী সাসাকির মা–বাবা দুজনেই জাপানি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কুস্তির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের ওজনের বিভাগে তিনি বিজয়ী হলেও অলিম্পিকে এবারই তিনি প্রথম যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে ২৩ বছর বয়সী হাচিমুরার মা জাপানি এবং বাবা আফ্রিকার বাসিন্দা। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার বাস্কেটবল লিগের নিয়মিত খেলোয়াড় তিনি।

ইতিমধ্যে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হাচিমুরা বলেছেন, টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন তিনি অনেক দিন থেকে দেখে আসছিলেন। এই পতাকাবাহকের দায়িত্ব পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।

বর্ণসমতা নিশ্চিত করতে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির যেসব পদক্ষেপ জাপান সম্প্রতি নিয়েছে, তার মধ্যে হাচিমুরার পতাকা বহনকে একটি অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জাপান অলিম্পিক কমিটি জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন এবং ভাইস-ক্যাপ্টেনও ঠিক করে নিয়েছে। ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করবেন স্প্রিন্টার রিওতা ইয়ামাগাতা, পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে জাতীয় রেকর্ডের অধিকারী তিনি।

ভাইস ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন একজন নারী প্রতিযোগী, তিনি হলেন টেবিল টেনিস তারকা কাসুমি ইশিকাওয়া।