বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে একঘরে করতে উদ্যোগ নিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। এশিয়ার দেশগুলোকে পশ্চিমা বলয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সে লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড সফর শেষ করে এখন রোমে অবস্থান করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে রাশিয়া কেবল জাপানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেই থেমে থাকেনি। আজ বুধবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী কিশিদাসহ ৬৩ জাপানি নাগরিকের ওপর রাশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিশিদা ছাড়া আরও আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইয়োশিমাসা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নোবুও কিশি ও চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিরোকাজু মাৎসুনোসহ জাপানের পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সদস্য।

এ ছাড়া রাশিয়ার সমালোচক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষককে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের রুশবিরোধী ‘বাগাড়ম্বর হচ্ছে বৈরিতার নজিরবিহীন এক দৃষ্টান্ত।’

জাপান এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য এবং পুতিনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের অনেককে নিষিদ্ধের তালিকায় যোগ করে। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেয়।

দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ এখন অনেকটাই প্রতীকী সিদ্ধান্ত হয়ে উঠেছে। এরপরও তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য কিছুটা হলেও অশুভ বার্তা দিচ্ছে। সমর বলের দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা দেশগুলোর এ সম্পর্ক সংকট থেকে বের হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সুস্পষ্ট আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।

এশিয়ার দেশগুলোকে পশ্চিমা বলয়ে টানতে কিশিদার প্রচেষ্টা ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড সফরে কিন্তু তেমন সাফল্যের মুখ দেখেনি। ইউক্রেন প্রসঙ্গে রাশিয়ার নাম উচ্চারণ করা থেকে এই তিন দেশের নেতাদের বিরত থাকা স্পষ্টতই বলছে, কিশিদার সুপারিশের পথে হাঁটতে তারা নারাজ।

এরপরও জাপান কিন্তু থেমে নেই। অনেকটা একই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি এখন ফিজি ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের আরও কয়েকটি দেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে রোমে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী কিশিদা আজ ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে ইউক্রেন পরিস্থিতি ছাড়াও পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি থেকে বিশ্বকে মুক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিশিদা ও পোপ ফ্রান্সিস ইউক্রেনে বেসামরিক লোকজনকে হত্যার নিন্দা করেছেন। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন