বিজ্ঞাপন

জাপানে পৌঁছানোর তিন দিন পর আজ মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের প্রস্তুতির কাজ দেখাশোনাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন টমাস বাখ। এর আগে তিনি করোনাভাইরাস সতর্কতা বিধি মেনে টোকিওর ওই বিলাসবহুল হোটেলে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক শুরুর বাকি মাত্র দশ দিন।

দর্শকবিহীন অলিম্পিক আয়োজনের কথা থাকলেও শুরুর আগে বেশ কিছু কাজ রয়েছে, অলিম্পিক মশাল প্রজ্জ্বলিত হওয়ার আগে যেগুলো শেষ করা দরকার। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার টমাস বাখ টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির সদর দপ্তর পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় সংক্ষিপ্ত ভাষণে আয়োজক কমিটির সভাপতি সেইকো হাশিমোতো ও কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিরো মুতোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এযাবৎকালের সেরা শহর হিসেবে টোকিওকে রূপান্তরিত করেছেন আপনারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন যে বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের সবাইকে হতে হচ্ছে, সে রকম পরিস্থিতির আলোকে এই সাফল্য হচ্ছে আরও অনেক বেশি তাত্পর্যপূর্ণ।’

টমাস বাখ বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হচ্ছে, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত একটি অলিম্পিকের আয়োজন সবার জন্য করা, এথলেটদের জন্য, সব প্রতিনিধির জন্য এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যা হচ্ছে, তা হলো চীনের জনগণ।’ ‘চীনের জনগণ’ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ‘জাপানের জনগণ’ শব্দটি উল্লেখ করেন তিনি।

আইওসি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে ইংরেজি থেকে জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছিল। দোভাষী বিষয়টি বুঝতে পেরে জাপানি অনুবাদে চীনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও মূল ইংরেজি বক্তব্য দর্শক-শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি জাপানি সংবাদমাধ্যমেও ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। এদিকে অলিম্পিক আয়োজনবিরোধী একটি দল ফেস্টুন হাতে টমাস বাখের হোটেলে বাইরে অবস্থান নেন।

আগামী শুক্রবার অলিম্পিক কমিটির প্রধানের হিরোশিমা সফর করার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় হিরোশিমার চালানো প্রচেষ্টার সঙ্গে অলিম্পিককে সম্পৃক্ত করার একটি প্রয়াস বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। অলিম্পিক চলার দিনগুলোতে বিশ্বের সংঘাতময় বিভিন্ন অঞ্চলে সাময়িক অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও আয়োজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেয়, শহরের বাইরে অবস্থিত মুষ্টিমেয় কয়েকটি ভেন্যু ছাড়া অন্য কোনো ভেন্যুতে দর্শক প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হবে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় জাপান সরকার অলিম্পিক চলাকালীন টোকিও ও পার্শ্ববর্তী তিনটি জেলায় পুনরায় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেয়। ২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাওয়া ২০২০ টোকিও অলিম্পিক ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

দর্শক উপস্থিতি ছাড়া অলিম্পিক আয়োজনের পাশাপাশি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নানা বিধিনিষেধ থাকায় এবারের টোকিও অলিম্পিক শেষ পর্যন্ত লোকসানে পরিপূর্ণ এক অলিম্পিক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। অলিম্পিকে আয়ের মূল উৎস হচ্ছে, টিকিট বিক্রির পাশাপাশি সম্প্রচার অধিকার বিক্রি করা থেকে আসা অর্থ। আয়োজক কমিটি ইতিমধ্যে দর্শকদের কেনা টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানও ক্রয় করা সম্প্রচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

অলিম্পিকের সম্প্রচার অধিকার বিক্রি থেকে যা আয় হয়, তার প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থই পায় আইওসি। সংবাদমাধ্যমের খবরে আভাস দেওয়া হয়েছে, সম্প্রচারসংক্রান্ত চুক্তি বাতিল হওয়ায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে আইওসির। অন্যদিকে জাপান সরকারের নথিপত্রে বলা হয়েছে, অলিম্পিক আয়োজনে ১ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি এসেছে করদাতাদের পরিশোধ করা অর্থ থেকে। সমালোচকেরা অবশ্য এই হিসাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না, বরং তাঁদের ধারণা, খরচের মোট পরিমাণ এর চেয়ে আরও অনেক বেশি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন