বিজ্ঞাপন

প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেশের অধিকাংশ এলাকায় ৮০ বছর কিংবা তার বেশি বয়সের বৃদ্ধদের টিকা দেওয়া মাত্র শুরু হয়েছে। ফলে ৮০ বছরের নিচে যাঁদের বয়স, তাঁরা কবে টিকা পাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এমন নয় যে বাংলাদেশ এবং তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের মতো টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ জাপান পায়নি। ফাইজারের সঙ্গে টিকা সরবরাহের চুক্তি অনেক আগেই করেছে এবং সরকার এখন বলছে, জুলাই মাসের ২৩ তারিখে অলিম্পিক শুরু হওয়ার আগে ৬৫ বছর কিংবা বেশি বয়সী আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এখন পর্যন্ত যে গতিতে টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে চলেছে, তাতে অবশ্য খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ তেমন নেই।

শুরুতে টিকা সংগ্রহে সরকারকে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে বলা হলেও পরে জানা যায়, বিলম্বের প্রধান কারণ সেটা নয়। বরং টিকার নিরাপত্তার সার্টিফিকেট দিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই বিলম্ব তৈরি করেছে। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে কালক্ষেপণের পথ বেছে নেয়। এ কারণেই ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে টিকার প্রথম চালান জাপানে এসে পৌঁছানোর পরও মাস শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিন আগেই কেবল টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।

দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি জাপানে বসবাসরত সবার জন্য বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও এতটা বিলম্ব ও জটিলতার কারণে টিকা পাওয়ার জন্য মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে নাগরিকদের টিকা দেওয়ার বেলায় পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে জাপান এখন গণ্য হচ্ছে।

জাপানের দুজন গবেষক গত সপ্তাহে প্রকাশিত তাঁদের গবেষণাপত্রে দেখিয়েছেন, বর্তমান গতিতে সরকারের টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে চললে জাপানের ১৬ বছর কিংবা বেশি বয়সী ১১ কোটি মানুষকে টিকা দিতে এক হাজার দিন লেগে যাবে। প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ২০ হাজার টিকা দেওয়া হবে, সে রকম ধারণার ভিত্তিতে এ হিসাব তাঁরা করেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচির গতি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বলছেন, গতি চার গুণ বৃদ্ধি করা হলেও আগামী বছর মার্চ মাসের আগে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আনুপাতিক হার বিশ্লেষণ করে দুই গবেষক একই সঙ্গে দেখিয়েছেন, জাপানে মৃত্যুর হার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তাঁরা বলছেন, এপ্রিল মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রতি এক লাখ মানুষের মৃত্যুর হার জাপানে ছিল ৭ দশমিক ৯, তা দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে সাড়ে তিন গুণ এবং চীনের চেয়ে ২৬ গুণ বেশি। ফলে টিকাদান কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা না হলে জাপানে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা কঠিন হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে তারপরও টিকাদানে গতি আনার তেমন কোনো আভাস এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

টোকিওর যে শহরতলিতে আমার বসবাস, সেখানে ৮০ বছরের বেশি বয়সের লোকজনের টিকাদান মাত্র শুরু হয়েছে এবং ৬৫ থেকে ৮০ বছর বয়সসীমার বৃদ্ধদের টিকা নেওয়ার পালা মধ্য জুনের আগে আসবে না। ফলে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য তাঁদের অনেককেই সার্বক্ষণিকভাবে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন