default-image

মধ্য জাপানের নাগোইয়া শহরে আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক। নাগোইয়া হচ্ছে আইচি জেলার প্রধান শহর। শিল্পের বিকাশের জন্য এই জেলাটি পরিচিত। বিশ্বের ১৯টি অগ্রসর অর্থনীতির দেশ ও সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্ত করে গড়ে উঠেছে অনানুষ্ঠানিক জোট জি-২০।

গঠনগত দিক থেকে অনানুষ্ঠানিক হলেও বিশ্বের প্রভাবশালী সব কটি দেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জি-২০-এর নেতা ও কর্মকর্তারা যেসব বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন, তা অন্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। সে জন্য জোটের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহের কমতি নেই।

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন জুন মাসের শেষ দিকে পশ্চিম জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শীর্ষ সম্মেলন ছাড়াও সারা বছর ধরে মন্ত্রী পর্যায়ের বেশ কিছু বৈঠক জাপানের কয়েকটি শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগোইয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন হচ্ছে সেই তালিকার শেষ বৈঠক। আগামীকালকের বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দেওয়া যৌথ বিবৃতির মধ্য দিয়ে শেষ হবে জি-২০ কাঠামোতে জাপানের সভাপতিত্বের মেয়াদ। ওসাকায় অনুষ্ঠিত মূল শীর্ষ সম্মেলনের মতোই পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনেও জোটের ২০ সদস্যের বাইরে আরও ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের জন্য যে তিনটি মূল বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হলো মুক্ত বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সুশাসন এগিয়ে নেওয়া, ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং আফ্রিকার উন্নয়ন। বহুজাতিক কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা হ্রাস পেতে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এর মূলে অবশ্য আছে জি-২০-এর আওতাভুক্ত কিছু কিছু দেশের অবস্থান নিয়ে অন্যদের মধ্যে দেখা দেওয়া অসন্তোষ, যার ফলাফল হিসেবে তীব্র হয়ে উঠছে বাণিজ্য সংঘাত। এসব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়মিত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত না হলেও এর গুরুত্বের আলোকে মন্ত্রীরা মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনায় মিলিত হবেন।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য যে দিকটি মনোযোগ থাকবে, সেটা হলো টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের ওপর জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোকপাত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক দশক বাকি থাকার মুখে জাতিসংঘ সম্মেলনে নিজেদের করা অঙ্গীকার পূরণ করে নিতে আগামী এক দশককে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দশকে পরিণত করার উপায় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া আফ্রিকা মহাদেশের উন্নয়নের বিষয়টি ভিন্নভাবে আলোচনা করা হবে।

জি-২০ ছোট আঙ্গিকে একটি বহুজাতিক কাঠামো হওয়ায় বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে দেখা দেওয়া বিরোধ সম্মেলনে উত্থাপনের সুযোগ নেই। তবে সম্মেলনের বাইরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভিন্নভাবে আলোচনায় মিলিত হওয়ার সময় সেসব বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। সেদিক থেকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের দিকে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকৃষ্ট হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ এক আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের মধ্য দিয়ে দুই দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন এবং আগামীকাল কয়েক পর্বে আলোচনায় মিলিত হওয়া শেষে সভাপতির বিবৃতির মধ্য দিয়ে শেষ হবে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক।

সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক সাক্ষাৎকারে আইচির গভর্নর হিদেয়াকি ওমুরা বলেছেন, জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের স্বাগতিক শহর হতে পেরে নাগোইয়া শহরের পাশাপাশি আইচি জেলা আনন্দিত। তিনি আশা করছেন, বিশ্বের ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাঁদের আলোচনায় মুক্ত বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা দেবেন এবং সে রকম কিছু হলে জাপানের শিল্প বেল্ট হিসেবে পরিচিত আইচি জেলা উপকৃত হবে। সম্মেলনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব না হলেও নাগোইয়া ও আইচি জেলার পরিচিতি বিশ্বজুড়ে এটা আরও কিছুটা ছড়িয়ে দেবে বলে তিনি আশা করছেন, যার সুস্পষ্ট কিছু অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে আশা করা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন