default-image

জাপানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কিছু সুপারিশ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা, সংক্রমণের গুচ্ছ বা ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সংক্রমণ সামাল দেওয়ার পদক্ষেপ জোরদার করা।

কমিটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আবারও শুরু হওয়ার মুখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে বুধবার ৩১৭টি নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। গত ২০ আগস্টের পর দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা আবারও ৩০০ ছাড়াল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এখন শুধু রাজধানীতেই নয়, বেশ কিছু জেলায়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে অর্থনৈতিক মন্দাও প্রকট আকার ধারণ করছে। জাপানের একটি বেসরকারি গবেষণা কেন্দ্রের জরিপ বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ৭০০–এর বেশি পানশালা ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এক ব্যক্তির আয়ে চলা পরিবারগুলো এবং অভিবাসী কর্মজীবীরা। তাঁদের অনেকেই এখন রাতে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে সুপারমার্কেটে কেনাকাটার জন্য ভিড় করেন। কারণ দিন শেষে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে অবিক্রীত খাদ্যসামগ্রী অল্প মূল্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। একক আয়ের পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হলেও বিভিন্ন নাগরিক গ্রুপ বলছে সাহায্যের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়।

বিজ্ঞাপন

জাপানের স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের আনুমানিক হিসাবে বলা হয়েছে, জাপানজুড়ে একক আয়ে চলা পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের প্রধান হলেন কর্মজীবী নারী, যাঁদের বার্ষিক গড় আয় ২০ লাখ ইয়েন। এই আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ জাপানে কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

অন্যদিকে অভিবাসী লোকজনকে সহায়তা দেয় জাপানি একটি নাগরিক গ্রুপ সতর্ক করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার সহায়তার হাত বাড়িয়ে না দিলে বিদেশিদের মধ্যে অনেকে অনাহারে কিংবা অসুখে ভুগে প্রাণ হারাতে পারেন। ‘ইজুরেন’ নামে পরিচিত জাপানে অভিবাসীদের সহায়তার সংহতি নেটওয়ার্ক গুন্মা জেলায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অসহায় বিদেশিদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। গত মঙ্গলবার ইজুরেনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন বিদেশিও বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ থেকে আসা মোহাম্মদ ফরিদ বলেছেন, ১৭ বছর আগে তিনি জাপানে এসেছেন এবং দুই সন্তান ও পরিবার নিয়ে জাপানে তিনি বসবাস করছেন। আগের চেয়ে ভালো একটি চাকরির প্রস্তাব আসায় কাজ ছেড়ে দিয়ে তিনি যখন নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই করোনার আঘাত চলে আসায় মালিক তাঁর সেই সুযোগ বাতিল করে দেন। আগের চাকরিতেও তিনি আর ফিরে যেতে পারেননি। এখন কোনোরকমে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে।

মন্তব্য পড়ুন 0