default-image

টাইকে ‘ঔপনিবেশিক ফাঁস’ আখ্যা দিয়ে তা পরতে অস্বীকৃতি জানান নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের এক সদস্য। এ জন্য ‘পোশাক নীতি ভঙ্গের’ অভিযোগ এনে তাঁকে গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বক্তব্যদানে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর পার্লামেন্ট আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। বুধবার অধিবেশনে টাই পরা ছাড়াই ওই সাংসদকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ওই সাংসদের নাম রাওরি ওয়াইতিতি। তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা মাউরি পার্টির নেতা। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরপর্বে ওয়াইতিতি বক্তব্য দিতে চাইলে তা বেশ কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন স্পিকার ট্রেভর ম্যালার্ড। এর কারণ, ওয়াইতিতি টাই পরেননি। এর পরিবর্তে তাঁর গলায় ছিল মাউরিদের ঐতিহ্যগতবাহী বিশেষ অলংকার হি টিকি। সঙ্গে মাউরিদের মতো সারা মুখে ট্যাটু ও কালো বিশেষ টুপি পরেছিলেন তিনি।

ওয়াইতিতি গত বছর প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টে প্রথম ভাষণে নিজের এক পূর্বপুরুষের গল্প তুলে ধরেন, যাঁকে ব্রিটিশ সরকার হত্যার অভিযোগ তুলে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন। টাই না পরার বিষয়ে ওয়াইতিতি বলেন, ‘আমি আমার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যই বহন করব এবং আমার গলায় ঝুলে থাকা ঔপনিবেশিক ফাঁস অপসারণ করব, যাতে আমি আমার কথা বলতে পারি।’

ওয়াইতিতির যুক্তি, তিনি অন্য কারোর ঐতিহ্য ধারণ করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মাউরিদের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক পোশাকই পরেছি। টাই নয়, এটাই আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়।’

বিজ্ঞাপন

নিউজিল্যান্ডের ৫০ লাখ জনসংখ্যার ১৫ শতাংশের মতো মাউরি। কিন্তু তাঁরা দারিদ্র্যসহ নানা সমস্যায় পীড়িত। অনেকের মতে, নিউজিল্যান্ডে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন শুরুর পর মাউরিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হয়।

ওয়াইতিতি বলেন, টাই তুলে ধরেছে যে দেশে জাতিগত সম্পর্কের উন্নতি এখনো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘এটা (টাই পরা) ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকদের অধিকারের লঙ্ঘন। এ রকম পরিবেশে আমাদের নিজেদের সাংস্কৃতিক সত্তা তুলে ধরার অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে।’

আমি মনে করি না যে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা টাইয়ের বিষয়টি গ্রাহ্য করেন
প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেছেন, আইনপ্রণেতাদের টাই না পরার বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা টাইয়ের বিষয়টি গ্রাহ্য করেন।’

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার পোশাক নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও বুধবার এসে তা শিথিল করেন স্পিকার ম্যালার্ড। এদিন ওয়াইতিতি টাই পরা ছাড়াই পার্লামেন্টে বক্তব্য দেন। পরে ম্যালার্ড বলেন, টাই পরার স্থায়ী নীতি পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। টুইট করে তিনি বলেন, স্পিকার হিসেবে আমি বিষয়টি নিয়ে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করছি। উপযুক্ত ব্যবসায়িক পোশাকের অংশ হিসেবে টাই পরা বাধ্যতামূলক আর থাকবে না।’

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন