দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তথৈবচ, রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ। এরই প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন। মুদ্রাস্ফীতির জেরে মানুষের খাবার জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় কলম্বোয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকে ট্রেন ও ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষোভকারীরা রাজধানীতে আসতে থাকেন। কলম্বোতে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

শ্রীলঙ্কার মুদ্রাস্ফীতি দেশে প্রবল অর্থনৈতিক সংকটের জেরে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে মুদ্রাস্ফীতি ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিশ্বের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এশিয়ার সব থেকে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি শ্রীলঙ্কাতে হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

করোনা মহামারির পর থেকেই শ্রীলঙ্কার অর্থিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বিদেশি মুদ্রার ঘাটতির জেরে বিদেশ থেকে জ্বালানি, ওষুধ ও জরুরি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। খাদ্যশস্য আমদানি করতে না পাওয়ার ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া ব্যাপক পরিমাণে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে শ্রীলঙ্কা সরকার এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেয়।

প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সৈন্যরা গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় তাঁরা খোলা আকাশে গুলি ছোড়েন।
১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে বাজে আর্থিক সংকট পার করছে শ্রীলঙ্কা। বর্তমানে দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলে আর কিছু নেই। ফলে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত শ্রীলঙ্কা খাবার, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতি জরুরি আমদানি প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। বর্তমান এই দুরবস্থার জন্য দেশটির অধিকাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দায়ী করছেন। গত মার্চ থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন শহরে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন