তাইওয়ান যে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য সমস্যা

বিজ্ঞাপন
default-image

কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নিয়েও তাইওয়ান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সফলভাবে ঠেকিয়েছে। এত চেষ্টার পরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদস্য হতে পারছে না দেশটি। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতায় এই সদস্যপদ আটকে গেছে।

গত সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে টিভিতে ডব্লিউএইচও কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার প্রচারের সময়। টিভির ওই সাক্ষাৎকারে কর্মকর্তা তাইওয়ানকে নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এড়িয়ে যান। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও ওঠে। টিভির ওই সাক্ষাৎকারটি পরে ভাইরাল হয়।

কী ঘটেছিল
গত শনিবার হংকংয়ের একটি টিভি আরটিএইচকে ভিডিও কলে সাক্ষাৎকার দেন ডব্লিউএইচওর সহকারী মহাপরিচালক ব্রুস আইলওয়ার্ড। সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন সাংবাদিক ওয়াইভন তং। একপর্যায়ে তং বলেন, ডব্লিউএইচও তাইওয়ানের সদস্যপদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে কি না। আইলওয়ার্ড এই প্রশ্নে কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে যান। তারপর তিনি বলেন, কিছু শুনতে পাচ্ছেন না এবং পরবর্তী প্রশ্নে যেতে বলেন।

তং বলেন, তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলতে চান। এই পর্যায়ে আইলওয়ার্ড টেলি–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে করে দেন। এরপর আবারও ওই সাংবাদিক আইলওয়ার্ডকে ফোন দেন। তং তাঁকে জবাব দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করেন এবং বলেন, তিনি তাইওয়ান প্রসঙ্গেই প্রশ্ন করতে চান। আইলওয়ার্ডকে তিনি বলেন, তিনি করেরানাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে তাইওয়ানের ভূমিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন কি না।

আইলওয়ার্ড তখন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তো চীনকে নিয়ে কথা বলেইছি।’ তাঁর শেষ বাক্যটি ছিল তাইওয়ানের ব্যাপারে চীনের অবস্থার প্রতিফলন। চীন বলে থাকে তাইওয়ান একটি দ্বীপ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রদেশ। তাইওয়ান অবশ্য নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র বলে মনে করে।

ডব্লিউএইচওর সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক
আইলওয়ার্ডের এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় ডব্লিউএইচওর সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক অদ্ভুত। ডব্লিউএইচওর সদস্যপদ পেতে হলে আগে জাতিসংঘের সদস্যপদ পেতে হয় অথবা ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির অনুমোদন পেতে হয়। জাতিসংঘ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় না।

এর অর্থ হলো, তাইওয়ান করোনাভাইরাস মহামারিবিষয়ক কোনো জরুরি বৈঠক বা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কোনো প্রয়োজনীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারে না। তাইওয়ানের কর্মকর্তা স্ট্যানলি কাও বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার অনুমতিও তাঁরা পাননি।

এর অর্থ হলো, ডব্লিউএইচও চীনের করোনাভাইরাস পরিসংখ্যানের মধ্যেই তাইওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কাও মনে করেন, এতে বিশ্ব প্রকৃত তথ্য যথাসময়ে পাচ্ছে না।

তাইওয়ানকে বাইরে রাখা এবং বারবার চীনের প্রশংসা করায় ডব্লিউএইচও সমালোচনায় পড়েছে। অনেকে মনে করেন, চীনের প্রতি ডব্লিউএইচওর রাজনৈতিক পক্ষপাত রয়েছে। চীন ডব্লিউএইচওর অন্যতম অর্থদাতা।

ডব্লিউএইচও ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনও তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।

তবে তাইপে থেকে বিবিসির সিন্ডি সুই জানান, সব সংস্থার মধ্যে তাইওয়ানের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশি জরুরি। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাগুলোর একটি তাইওয়ানের বলে অহংকার করে থাকে দেশটি।

তাইওয়ানের আগে বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় ছিল তারা। কিন্তু বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইপের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তাইওয়ান পর্যবেক্ষকের মর্যাদা হারিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন