বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভারতের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার রাজনীতিকেরাও। তামিল প্রগতিশীল জোটের নেতা ও কলম্বোর বিরোধীদলীয় এমপি মানো গানেসান বলেন, ‘এলটিটিই পুনরায় সংঘবদ্ধ হওয়ার খবর শ্রীলঙ্কার সামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, শ্রীলঙ্কায় জাতিগত সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সংবাদ কতটা সত্য? গোয়েন্দা সূত্রের উৎস কী? ভারতীয় নাকি বিদেশি? ভারতীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের কাছে আরও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’

অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছেন মানুষ। প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। গতকাল চার মন্ত্রীও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এতেও বিক্ষোভকারীরা আশ্বস্ত হতে পারেননি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কাছে শপথ নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে তাঁর এই নিয়োগে জনগণের বড় অংশই সন্তুষ্ট নয়। কারণ, তাঁকে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজাপক্ষে পরিবারের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। বিক্ষোভকাররা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চান।

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি বিপর্যস্ত। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি হয় পাওয়া যাচ্ছে না, অথবা দাম নাগালের বাইরে। সিলিন্ডারে জ্বালানি ভরতে গিয়ে পেট্রল স্টেশনে অপেক্ষমাণ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করা এলটিটিই তামিল টাইগার্স নামেও পরিচিত। এলটিটিইর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার সরকার এলটিটিইর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান চালিয়ে তাদের পরাজিত করে। ওই অভিযানে নিহত হন প্রভাকরণ। অভিযোগ ওঠে, ওই অভিযানে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটে। এর নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন