বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তালেবান সরকার সব আফগানদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। তবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অনেকে বিবিসিকে জানান, তাঁরা তালেবানকে বিশ্বাস করেন না। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই তালেবানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। অনেকে আবার সাবেক আফগান সরকারের সদস্য ছিলেন।
বেসামরিক জনগণের ওপর দমন–পীড়ন চলবে না, তালেবান নেতাদের এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কাবুলে প্রায়ই বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর খবর গণমাধ্যমে এসেছে।

গত সপ্তাহে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব অডিও বার্তায় বলেন, তালেবানরা বেশ কিছু প্রতিশোধমূলক হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী নানা পোস্টের জন্য তালেবানরা প্রতিশোধ নিতে পারে বলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কাবুল ও আফগানিস্তানের আরেক প্রধান শহরে দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তাঁদের মধ্যে একজন ব্যবহারকারীর কয়েক লাখ অনুসারী রয়েছে। তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে তিনি বেশ প্রভাবশালীও ছিলেন। তিনিসহ আরেকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁদের অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছেন।

নিরাপত্তার কারণে কাবুলের ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর নাম প্রকাশ করেনি বিবিসি। তাঁর ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফিদা নামের ওই ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তালেবানরা কাবুলের ক্ষমতায় আসার পর স্বজনেরা তাঁকে সাবধান করে দেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে তালেবানবিরোধী নানা পোস্ট দিতেন। ফিদা এমনও শুনেছেন, গুলি করে হত্যা করা হবে এমন ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

ফিদা বলেন, তালেবানের কাবুল দখলের পরদিনই গত ১৬ আগস্ট তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন। ফিদা সবশেষ যে পোস্ট দিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল, তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর তিনি আফগানিস্তানে থাকার চেয়ে মৃত্যু বেশি ভালো বলে মনে করেন।

এমনই আরেক ব্যবহারকারী হারিস (ছদ্মনাম) বিবিসিকে বলেন, তালেবানরা কাবুল দখল করার দুই দিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তালেবানদের আসা মানে হলো গণতন্ত্রের বিদায়।
তালেবানরা ক্ষমা প্রদর্শন করার ঘোষণা দেওয়ার পরও কেন আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে চান, এমন প্রশ্নের উত্তরে হারিস বলেন, তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন না।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন