বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এক বছর আগে নানগরহার জেলা তালেবানমুক্ত করতে এবং তরুণদের তালেবানে যোগদান ঠেকাতে সাহায্য করেছিলেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ আজমল ওমর। গত মাসে নানগরহারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরপরই তাঁর খোঁজ শুরু করেন তালেবান সদস্যরা।

আজমল ওমরের বাড়ির সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আজমল ওমরের খোঁজ পেতে তাঁর আত্মীয়স্বজনকে আটক করার পাশাপাশি তাঁদের ওপর চাবুক মেরে অত্যাচার শুরু করে তালেবান। তাঁদের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও গাড়ি লুট করে।

ওমরের পরিবার অভিযোগ করে, তালেবান প্রতিশোধ না নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। নাম প্রকাশ না করে ওমরের এক আত্মীয় বলেন, ‘কেউ ভাবতে পারেনি আমরা এভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হব। তালেবান ঘোষণা দিয়েছিল যে আগের সরকারে কাজ করা কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা বিপরীত কাজটাই করেছে।’

ওমরের পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীদের মুখে অত্যাচারের বর্ণনা বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তালেবানের মুখপাত্র। তালেবান সরকারের এক মন্ত্রী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, দেশজুড়ে কমান্ডাররা সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্রসজ্জিত গাড়ি দখলমুক্ত করেছেন। কিন্তু তিনি ওমরের পরিবারের ওপর অত্যাচারের ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন না।

তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুবের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে তালেবানের কিছু সদস্যকে ভর্ৎসনা করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

ইয়াকুব বলেন, দুর্বৃত্ত এবং কুখ্যাত সাবেক সৈনিকেরাও তালেবানে যোগ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় এবং সরকারি অফিস দখল করা থেকে শুরু করে নানা অপরাধ তাঁরা করেছেন। কথিত হত্যার দুই থেকে তিনটি ঘটনাও ঘটেছে। আপনারা জানেন, আফগানিস্তানে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো তালেবান সদস্যের কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার নেই।’

পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নারী বিচারকেরা

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তালেবানের প্রতিশোধের ভয়ে ২২০ জনের বেশি নারী বিচারক এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর আগে সাজাপ্রাপ্ত তালেবান সদস্যদের কাছ থেকে তাঁরা মৃত্যুহুমকি পেয়েছেন। মৃত্যু হুমকি পাওয়ার পর সবাই ফোন নম্বর বদলে ফেলেছেন। তাঁরা এখন নিয়মিত স্থান বদল করে পালিয়ে থাকছেন। তাঁরা বলছেন, তাঁদের পুরোনো ঠিকানায় যাচ্ছেন তালেবান সদস্যরা। আত্মীয়স্বজনকে অবস্থান জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

এ অভিযোগের জবাবে তালেবান মুখপাত্র বিলাল কারিমি বিবিসিকে বলেছেন, ‘অন্যান্য পরিবারের মতো নারী বিচারকদের নির্ভয়ে বাস করা উচিত। কেউ তাঁদের অবশ্যই হুমকি দেবেন না। আমাদের বিশেষ সামরিক ইউনিট এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে বিধি লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।’

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন