default-image

জাপানের প্রধান নগরীগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আবারও সীমিত পরিসরে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এ ঘোষণা দিয়েছেন। এবার নিয়ে জাপান করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তৃতীয় দফায় জরুরি অবস্থার পথে হাঁটছে।

এবারের জরুরি অবস্থা রাজধানী টোকিও ছাড়াও ওসাকা, কিওতো ও হিওগো জেলায় কার্যকর হবে। আগামী রোববার শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রধান কয়েকটি নগরকেন্দ্র থেকে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস ছড়ানোয় নাগরিকদের যতটা সম্ভব ঘরের বাইরে বের হওয়া ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে টানা কয়েক দিন ধরে চলা ছুটির সময় নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা চলছে। এ জন্য পানশালা, রেস্তোরাঁ, কারাওকে বার ও পাচিঙ্কো পার্লারের মতো বিনোদনমূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা না মানলে এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এবার সীমিত কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত হলেও দেশের মোট জনসংখ্যার এক–চতুর্থাংশ এর আওতায় পড়বে। এ ছাড়া অর্থনীতির এক–তৃতীয়াংশের ওপর সরাসরি এর প্রভাব পড়বে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারি থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে অনেক দেশ লকডাউন দিলেও জাপান এখনো তা করেনি। তবে এবারের জরুরি অবস্থাকে লকডাউনের কাছাকাছি পর্যায়ের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এ সময়ে বড় ধরনের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। পরিবহন কোম্পানিগুলোকেও বাস, ট্রেন ও পাতাল রেলের চলাচল সীমিত করতে বলা হচ্ছে। এতেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে সরকার জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াতে পারে বলে করোনাভাইরাস সামাল দেওয়ার বিষয়ে সরকারের উপদেষ্টা প্যানেলের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও জাপান সরকারকে ভাবতে হচ্ছে, তা হলো টোকিও অলিম্পিক আয়োজন। আর মাত্র তিন মাস পর একবার স্থগিত হওয়া ২০২০ টোকিও অলিম্পিক শুরু হওয়ার কথা। তবে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকায় ক্রমশ আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে অলিম্পিকের সম্ভাবনা। তবে অলিম্পিক আয়োজক কমিটির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আইওসি এখনো মনে করছে, আগামী ২৩ জুলাই থেকে টোকিওতে এই ক্রীড়া আসর বসবে। গত বুধবার আইওসির নির্বাহী বোর্ডের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার প্রধান টমাস বাখ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মনে করেন না যে জাপানে তৃতীয়বারের মতো কার্যকর হতে যাওয়া জরুরি অবস্থা অলিম্পিকের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। অলিম্পিক উপলক্ষে বিদেশি দর্শকদের জাপান ভ্রমণের পথ এরই মধ্যে বন্ধ হয়েছে। তবে দেশের ভেতরের দর্শকদের বিভিন্ন ক্রীড়া ভেন্যুতে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আয়োজকেরা এখনো জানাননি।

আইওসি ও টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি—উভয়েই অলিম্পিক আবারও স্থগিত হওয়া দেখতে নারাজ। কারণ, ২০২০ টোকিও অলিম্পিক আরও একবার স্থগিত হলে অলিম্পিকের এ আসরের আয়োজন বানচাল হয়ে যেতে পারে। তা হলে বিপুল অঙ্কের লোকসানের যে হিসাব করতে হবে, সেটা তাঁরা দেখতে চাইছেন না। তাই ঝুঁকি সত্ত্বেও অলিম্পিক আয়োজনের ওপর তাঁদের জোর দিতে দেখা যাচ্ছে।

তবে জাপানের অনেকে এই অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তাঁদের মতে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকায় মাত্র তিন মাস পর টোকিওতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন অনেকটাই ‘অলীক’ ভাবনা। দেশের প্রধান কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এখন ক্রমশ সেদিকে ঝুঁকছে। দেশের নেতৃস্থানীয় দৈনিক আসাহি শিম্বুন আজ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছে, অলিম্পিকের জন্য ক্রীড়াবিদ, আয়োজক ও অন্যরা যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তা বিবেচনায় অলিম্পিকের মশাল প্রজ্জ্বলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সহানুভূতি থাকবে। তবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ করে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত হবে না।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন