default-image

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হের ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। গত জুলাইয়ে পার্কের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাজা ৩০ বছর থেকে কমিয়ে ২০ বছর করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ এই সাজা কমানোর বিরোধিতা করে আপিল করেছিল। সে বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায় দিলেন। বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা ১৮ অভিযোগের মধ্যে ১৬টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

৬৮ বছরের পার্ককে প্রথমে ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ বিলিয়ন ওন অর্থদণ্ড করা হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট তাঁর জরিমানা ও শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে দেন। সেখানে তাঁকে দুর্নীতির দায়ে ১৫ বছরের ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর জরিমানা কমিয়ে ১৮ বিলিয়ন ওন (১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট জরিমানার এ অর্থের পরিমাণও বহাল রেখেছেন।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম নারী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন পার্ক। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বন্ধু চোই সুন-সিল পার্কের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে সাড়ে ৬৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে স্যামসাং এবং হুন্দাইয়ের মতো কোম্পানিও রয়েছে। ওই অর্থ সন্দেহভাজন একটি ফাউন্ডেশনের নামে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়, পার্ক এসব ফান্ড থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এমনকি দীর্ঘদিনের বন্ধুর কাছে গোপনীয় প্রেসিডেনশিয়াল নথিও তিনি ফাঁস করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসব অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা পার্ককে অভিশংসিত করার পক্ষে রায় দেন। তখন থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১০ মার্চ পার্ককে সাংবিধানিক আদালত চূড়ান্তভাবে অভিশংসিত করেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৮ সালে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১৮টি অভিযোগের মধ্যে ১৬টিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে পার্ক সব সমই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতের কার্যক্রমে হাজির হতে চাইতেন না তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত মাসেই আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট লি মিয়ং-বাকের (২০০৮-১৩) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালে দুর্নীতির তদন্তের সময় আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট রোহ মু-হিউন (২০০৩-০৮) আত্মহত্যা করেন। তারও আগে আরও দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট চুন ডু-হওয়ান ও রোহ তাই-ওউ ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন