লাকপা শেরপা আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা করেননি। কারণ, ছোটবেলা থেকেই পর্বতারোহীদের মালামাল বহন ও রসদ সংগ্রহের কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। আজ বৃহস্পতিবার দশমবারের মতো এভারেস্টশৃঙ্গে সফলভাবে আরোহণ করে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড আবারও ভাঙলেন তিনি। নিজের এ কীর্তি নিয়ে লাকপা সব সময় বলেন, তিনি অন্য নারীদের উৎসাহ দিতে চান, যাতে তাঁরা তাঁদের স্বপ্ন অর্জন করতে পারেন। নেপালের নাগরিক হলেও লাকপা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ২৬ বারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড করেছেন নেপালি শেরপা কামি রিতা। এর মধ্য দিয়ে গত বছর করা নিজেরই রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। গত শনিবার এভারেস্টের দক্ষিণ-পূর্ব শৈলশিরা পথ ধরে ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার পর্বতটির চূড়ায় পৌঁছান কামি রিতা শেরপা। এই একই পথ ধরে ১৯৫৩ সালে প্রথমবারের মতো এভারেস্টে মানুষের পদচিহ্ন এঁকেছিলেন নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমুন্ড হিলারি ও নেপালি শেরপা তেনজিং নোরগে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নেপাল পর্বতারোহীদের ওপর প্রচণ্ড রকম নির্ভরশীল। ২০১৯ সালে অনেক বেশি মানুষকে পর্বতারোহণের অনুমতি দেওয়ায় এবং বেশ কয়েকজন আরোহীর মৃত্যু হওয়ায় বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল হিমালয়ের এই দেশটি। চলতি বছর জনসমাগমের মৌসুমে (মে মাস পর্যন্ত) ৩১৬ জনকে এভারেস্টে আরোহণের অনুমতি দিয়েছে নেপাল। গত বছর এ সংখ্যা ৪০৮ ছিল, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

হিমালয়ান ডেটাবেজের তথ্য অনুসারে, ১৯৫৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৬৫৭ বার এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন মানুষ। অনেকেই বেশ কয়েকবার করে এভারেস্ট জয় করেছেন। আর এ পর্যন্ত এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করতে গিয়ে মারা গেছেন ৩১১ জন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন