এদিকে গত সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশকে তদন্ত করতে বলেছেন শ্রীলঙ্কার আদালত। এ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শ্রীলঙ্কাজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব সহিংস ঘটনায় নয়জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় সেনা মোতায়েন করা হয়।

সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নামাল বলেন, ‘রাতারাতি এমন ঘটনা ঘটেনি। দুই পক্ষ থেকেই উসকানি ছিল। পুলিশকে এখন অবশ্যই দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রীলঙ্কান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। তাঁর নিজেকেও পদত্যাগ করতে হবে।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়া শ্রীলঙ্কায় মাসখানেকের বেশি সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। গত সোমবার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

জনরোষের মুখে কলম্বোর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সেনা পাহারায় পালিয়ে একটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান নেন তিনি।

এরপর বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে কারফিউ জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল। নিজের গদি টেকাতে রনিল বিক্রমাসিংহেকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদে বসিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

ক্ষমতায় থাকাকালে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতিসহ নানা ঘটনায় সমালোচিত বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল। শ্রীলঙ্কায় প্রভাবশালী বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতারাও তাঁর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন