বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে আশরাফ গনি বলেন, ১৫ আগস্ট যখন ঘুম ভাঙে তখন তিনি জানতেন না যে এটিই আফগানিস্তানে তাঁর শেষ দিন হবে। উড়োজাহাজ যখন ছাড়ল কেবল তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

সেদিনের কথা মনে করে গনি বলেন, দিনের শুরুতে কথা ছিল তালেবান কাবুলে ঢুকবে না। কিন্তু দুই ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। দুদিক দিয়ে তালেবানদের দুটি দল ঢুকতে শুরু করে। সে সময় তালেবানদের সঙ্গে সাংঘাতিক সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ রকম সংঘর্ষ হলে কাবুলের ৫০ লাখ মানুষের প্রাণ যেত। পুরো শহর ধ্বংস হয়ে যেত।

গনি বলেন, অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে তিনি কাবুল ছেড়ে চলে যেতে দিয়েছিলেন। নিজের স্ত্রীকেও তিনি চলে যেতে বলেন।

তালেবান কাবুলে ঢোকার পর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মুহিব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বলে গনি বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার জন্য গনি গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন, তবে কোনো গাড়ি আসেনি।

সেদিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধানের সঙ্গে ফিরে এসেছিলেন বলে জানান গনি। তিনি গনিকে বলেছিলেন কোনো পদক্ষেপ নিলে সবাইকে মেরে ফেলা হতে পারে।

গনি বলেছিলেন, সে সময় তিনি কাবুল থেকে খোস্ত শহরের দিকে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান জানিয়েছিলেন খোস্ত ও জালালাবাদ শহরও তালেবানের দখলে চলে গেছে। গনি বলেন, কাবুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে সেদিন তিনি দুই মিনিটের বেশি সময় পাননি।

আশরাফ গনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম না আমরা কোথায় যাব। যখন আমরা উড়োজাহাজে উঠলাম কেবল তখনই বুঝতে পারলাম যে আমরা কাবুল ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’

সাক্ষাৎকারে গনি বলেন, তিনি আসলে ছিলেন বলির পাঁঠা। কারণ, সবটাই ছিল আমেরিকার ইস্যু, আফগান ইস্যু নয়। নিজের জীবন ও মূল্যবোধগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও জানান গনি।

তালেবানদের ক্ষমতা দখলের সময় কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে সমালোচিত হন গনি। তিনি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন। সমালোচনা রয়েছে যে গনি লাখ লাখ ডলার নিয়েছেন তালেবানদের কাছ থেকে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ বলেন, গনির দেশ ছাড়ার ঘটনা খুবই লজ্জাকর।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন