default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড করছে। এর আগে কোনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এই পরিমাণ মানুষ মারা যায়নি কিংবা আক্রান্তও হয়নি। চীন সরকার প্রতিদিন যে হিসাব দিচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, নতুন সংক্রমণ কমছে। যদিও তাইওয়ান সরকার ও বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা এই সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সতর্কবার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা নমুনামাত্র।

ডব্লিউএইচওর প্রধান টেডরস আধানম গেবিয়াসস গত রোববার নতুন করোনাভাইরাস ২০১৯-এনসিওভি নিয়ে একটি টুইট করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু তথ্য সামনে এসেছে। এটা এমন মানুষ থেকেও ছড়াচ্ছে, যে কখনো চীন ভ্রমণ করেনি। তিনি এমন সময় এই মন্তব্য করছেন, যখন ডব্লিউএইচওর একটি দল চীন সফর করছে। তিনি লিখেছেন, ‘চীনের বাইরে যে অল্পসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ভাইরাস বিভিন্ন দেশে আরও ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা হয়তো এই ভাইরাসের সংক্রমণের নমুনা দেখতে পাচ্ছি মাত্র।’

চীনে যে মাত্রায় করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে, চীনের বাইরে অবশ্য এই মাত্রায় ছড়াচ্ছে না। তারপরও টেডরস এই নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন। তিনি বলেন, ‘এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু সব দেশকে কৌশল তৈরি করে এই ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

ডব্লিউএইচওর যে বিশেষজ্ঞ দলটি চীনে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রুস এলওয়ার্ড। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে জারি করা জরুরি অবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

ডব্লিউএইচও বলেছে, চীন নতুন সংক্রমণে যে তথ্য দিচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি খানিকটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তারপরও সতর্ক রয়েছে সংস্থাটি।

জীবিত করোনাভাইরাস আলাদা
অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা এর আগে কৃত্রিমভাবে করোনাভাইরাস তৈরি করেছিল। এবার রোগীর শরীর থেকে জীবিত করোনাভাইরাস আলাদা করেছেন তাঁরা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এই তথ্য জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের একটি ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা এই সফলতা পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, করোনাভাইরাস যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল, তা ঠেকাতে এই সাফল্য কাজে আসবে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্র্যাড হ্যাজার্ড বলেন, এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো, চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কারে সাহায্য করবে বিশেষজ্ঞদের এই সাফল্য।

অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের দলে রয়েছেন অধ্যাপক ডোমিনিক ডায়ার। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের কাছে নতুন এই আবিষ্কারের তথ্য হস্তান্তর করতে পেরে আমরা গর্বিত।’

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন