এর মধ্যেই ধর্মঘটের ঘোষণা আসে। ধর্মঘট চলাকালে আজ শ্রীলঙ্কার প্রধান শহরগুলোর দোকানপাট বন্ধ ছিল। বাস, ট্রেনের চালক ও কয়েক লাখ শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় আটকা পড়েন। আজ সকালে বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোর প্রধান রেলস্টেশন বন্ধ ছিল। নিকটবর্তী টার্মিনাল থেকে শুধু কিছু সরকারি বাস চলাচল করে।

ধর্মঘটে অংশ নেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরাও। তাঁরা কালো পতাকা হাতে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিরা ধর্মঘটে যোগ দিলেও হাসপাতালের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত ছিল।

ট্রেড ইউনিয়নের নেতা রাভি কুমুদেশ বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের অর্থনীতিকে এমন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাঁকে বিদায় নিতে হবে।’ তবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন, এক মাস ধরে তাঁর কার্যালয়ের সামনে চলমান বিক্ষোভ সত্ত্বেও তিনি পদত্যাগ করবেন না।

এদিকে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদে হামলার চেষ্টা করেন কয়েক হাজার ছাত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।

ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বাড়তে থাকা তেলের মূল্য ও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া সরকারের কর হ্রাসের সিদ্ধান্তে মারাত্মক অর্থসংকটে পড়ে।

ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনক কম। চলতি সপ্তাহে দেশটির অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যবহার করার মতো মাত্র পাঁচ কোটি ডলার রিজার্ভ আছে শ্রীলঙ্কার। এ জন্য জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন না তাঁরা। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

মূল্যস্ফীতি মাত্রা ছাড়িয়েছে। বাজারে পণ্য নেই। জরুরি পণ্য আমদানির মূল্য পরিশোধের জন্য আগামী ৮ মাসে শ্রীলঙ্কার ৪০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ঋণ পরিশোধ স্থগিত রেখেছে।

এপ্রিলের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, রাজাপক্ষে জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। তবে তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। পরে প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিপরিষদ নিয়োগ দেন। নতুন মন্ত্রিসভায়ও বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন তিনি। আন্দোলনকারীরা চান মাহিন্দা ও গোতাবায়া দুজনই পদত্যাগ করুক।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন