default-image

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের দখল করার এলাকায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়টি অনুমোদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল সোমবার এই আদেশ দিয়েছেন তিনি। নতুন বসতিতে ৮০০ বাড়ি নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এমন সময়ে এই আদেশ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায় আসন্ন এবং নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন জো বাইডেন। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বাইডেনের নীতি ঠিক ট্রাম্পের মতো নয়। কারণ, অতীতে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন–সংক্রান্ত নীতিতে তিনি সমর্থন করেননি। এ ছাড়া বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফিলিস্তিনের এলাকায় ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পুরোনো নীতি পুনঃস্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসরায়েলের বসতি স্থাপন–সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনে এবং ইসরায়েলকে সমর্থন করে। এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ২০১৯ সালে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৬৭ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন শীর্ষ কূটনৈতিক ইসরায়েলে বসতি পরিদর্শন করেননি। কিন্তু সেই নীতি ভাঙে ট্রাম্প প্রশাসন। গত বছরের নভেম্বরে পম্পেও পশ্চিম তীরের এই বসতি পরিদর্শনে যান। এরপর গতকাল নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে গৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পশ্চিম তীরে এমন সময়ে নতুন বসতি স্থাপনের তোড়জোড় শুরু হলো, যখন ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। গত দুই বছরের মধ্যে এটি চতুর্থ নির্বাচন। কারণ, এর আগের নির্বাচনগুলোয় কোনো দলই একভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন করে তা টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন ইসরায়েলের নেতারা।

এবারের নির্বাচনেও নেতানিয়াহু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি কয়েকটি মতামত জরিপ অনুসারে, নেতানিয়াহুকে এবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন ডানপন্থী গিদোয়ান সার। ডানপন্থী এই নেতা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণের পক্ষে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, গিদোয়ানকে হারাতে এবং ডানপন্থীদের ভোট পেতে নতুন করে বসতি স্থাপনের বিষয়টি সামনে এনেছেন নেতানিয়াহু।

পশ্চিম তীরে প্রায় ২৮ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকের বসবাস। সেখানে বসতি স্থাপন করে প্রায় সাড়ে চার লাখ ইহুদির বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়াকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন