বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি জাপানের সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে তুলে নিলে অনেকটা জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কের একটি বিষয় হয়ে ওঠে। এত অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে সমালোচনা বিস্তৃত হতে থাকলে আজ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মোরি। তিনি স্বীকার করেন, তাঁর মন্তব্য অলিম্পিকের চেতনাবিরোধী। কেউ এতে মর্মাহত হলে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বলেছেন, অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।

টোকিও অলিম্পিকের আয়োজন ঘিরে দেখা দেওয়া সন্দেহ এখন ক্রমশ আরও বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি জাপান সময়মতো টিকাদান শেষ করতে পারবে বলে অনেকেই মনে করছেন না। ফলে দেশের জনমতও এখন ক্রমশই অনেক বেশি অলিম্পিক আয়োজনের বিরোধিতার দিকে যাচ্ছে।

তবে বিশাল অর্থব্যয়ের সবটা গচ্চা যাওয়া এবং সেই সঙ্গে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থেকে সরকার চাইছে, অলিম্পিক যেন যেকোনো উপায়ে এ বছর টোকিওতেই অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি দর্শকবিহীন অলিম্পিকের আয়োজন করতে হলেও সরকার এখন তাতে রাজি আছে। যদিও এত দিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, দর্শকের উপস্থিতিতেই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সরকারের এতটা একগুঁয়েমি মনোভাবের পেছনে আয়-ব্যয়ের হিসাবের বাইরেও আছে রাজনীতির হিসাব-নিকাশ। প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার প্রতি জনসমর্থন এখন পতনমুখী। অক্টোবর মাসের মধ্যে নতুন একটি নির্বাচন ডাকতে হবে সরকারকে। ফলে সরকারের ভেতর–মহলের অনেকেই মনে করছেন, অলিম্পিক ভন্ডুল হয়ে যাওয়া নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়াকে অনেক বেশি কঠিন করে তুলতে পারে। আর তাই দর্শকের উপস্থিতি থাক বা না থাক, কোনো একভাবে অলিম্পিকের আয়োজন শেষ করতে পারলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন