বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাবুল দখলের তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় থাকা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধান করে আফগানিস্তানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা দেয় তালেবান। এই সরকারে তালেবানের কট্টরপন্থী নেতা ও সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা স্থান পেলেও সংগঠনটির বাইরে কোনো জাতিগোষ্ঠী বা নারী সেখানে নেই। এই সরকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের এক দিন পর বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে একটি সাক্ষাৎকার দেন তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আহমাদুল্লাহ ওয়াসিক। সাক্ষাৎকারে তিনি নারীদের খেলাধুলার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে নারীরা ক্রিকেট খেলতে পারবেন। কারণ, এটা নারীদের প্রয়োজন নেই।’ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে নারীদের মুখ ও দেহ ঢেকে রাখা কঠিন। ইসলাম নারীদের এ অবস্থাকে অনুমোদন করে না।’

তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আরও বলেন, এখন মিডিয়ার যুগে। এখন খেলায় প্রচুর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং এটা মানুষ দেখে। ইসলাম ও ইসলামিক আমিরাত (আফগানিস্তান) নারীদের ক্রিকেট খেলা বা শরীর অনাবৃত হয়, এমন কোনো খেলা অনুমোদন করে না।

নারীদের ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধের কথা এমন এক সময় এল, যখন আফগান পুরুষ ক্রিকেট দল টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নারী অধিকার নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে নারীদের স্বাধীনতা খর্ব করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা অ্যালিসন ডেভিডিয়ান। তিনি আফগানিস্তানে জাতিসংঘ উইমেনের উপপ্রধান। তিনি বুধবার বলেন, তালেবান নারীদের পুরুষ স্বজন ছাড়া বাইরে যেতে বাধা দিচ্ছে। কিছু প্রদেশে নারীদের কাজে যাওয়াও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করা হচ্ছে। সংঘাতের সময় পালিয়ে সুরক্ষা কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া নারীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

ডেভিডিয়ান বলেন, ‘তালেবান বারবার বিবৃতি দিয়ে ইসলামি কাঠামোর মধ্যে থেকে নারীদের অধিকার রক্ষার কথা বলেছে। কিন্তু প্রতিদিন আমরা নারী অধিকার লঙ্ঘনের তথ্য পাচ্ছি।’

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে বিক্ষোভের ওপর তালেবানের নিষেধাজ্ঞার পরও বুধবার রাজধানী কাবুল, পারওয়ান ও নিমরুজ প্রদেশে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা কাবুলে পাকিস্তানের দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ শুরু করলে তালেবানের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি ছোড়ে। অনেককে বেধড়ক পেটানোর পর গ্রেপ্তার করা হয়। তালেবান সদস্যরা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীদের ওপর বেত ও লাঠি ব্যবহার করে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন