নারুহিতোর প্রথম বিদেশি নেতা ট্রাম্প

বিজ্ঞাপন
default-image

জাপান সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সোমবার সকালে টোকিওতে সম্রাটের প্রাসাদে জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে ট্রাম্পের মোটর শোভাযাত্রা জাপানের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের প্রাসাদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো রাষ্ট্রীয় অতিথিদের স্বাগত জাপান।

১ মে সম্রাটের সিংহাসন আরোহণের দিন থেকে শুরু হওয়া নতুন রেইওয়া যুগের সূচনার উৎসবমুখর পরিবেশ এখনো সম্রাটকে ঘিরে চলছে। ট্রাম্প হলেন সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা প্রথম বিদেশি নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য দুর্লভ এই সম্মান সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা জাপান সরকার নিয়েছিল। ফলে, আজকের এই সাক্ষাৎ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার সরাসরি তেমন কোনো গুরুত্ব না থাকলেও ঐতিহাসিক দিকে থেকে তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ বহন করে।

সম্রাটের প্রাসাদে সৌজন্যমূলক আলোচনায় মিলিত হওয়ার আগে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর একটি ইউনিট ট্রাম্প দম্পতিকে গার্ড অব অনার দেয়। আজ সন্ধ্যায় সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী ট্রাম্প দম্পতির সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করছেন, যেখানে তাঁরা আবারও মিলিত হবেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে জাপান সফরে আসা বিদেশি নেতাদের সম্মানে নৈশভোজ দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে সম্রাট দম্পতির সাক্ষাৎ করা জাপান সরকারের প্রচলিত এক নিয়ম। রেইওয়া যুগের প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে নতুন সম্রাটের বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাতের তালিকার শীর্ষে ট্রাম্প জায়গা করে নিলেন।

default-image

বর্তমান সফরে জাপানের সমাজ ও জীবনের নানা দিক ট্রাম্প দম্পতি উপভোগ করে চললেও বিশ্বজুড়ে জাপানের জনপ্রিয় যে জিনিসটি তাঁরা এড়িয়ে যাচ্ছেন, তা হলো জাপানি খাবার। গতকাল রোববার দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে গলফ ক্লাবে অংশ নেওয়া মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী বারগার সরবরাহ করা হয়। গতকাল রাতের আহারের মেন্যুতেও ছিল জাপানি নয়, বরং বিদেশি খাবার। টোকিওর রপ্পোঙ্গি এলাকার এক বনেদি রেস্তোরাঁয় তাঁদের গত রাতের নৈশভোজের মেনুতে ছিল মাখন মিশ্রিত ঝলসানো আলু, সালাদ, মুরগির মাংসের স্টেক, জাপানের উন্নত মানের ওয়াগিউ গোমাংসের স্টেক এবং ভ্যানিলা আইসক্রিম। আজ রাতে সম্রাটের নৈশভোজে থাকছে ফরাসি মেনু।

ট্রাম্প সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্ব শেষ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছে। বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি ও বাধাবিপত্তি নিয়ে কথা বলা ছাড়াও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়েও তাঁরা মতামত বিনিময় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাপানের বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষের দিকটি আলোচনায় আবারও উঠে আসতে পারে। জাপান অবশ্য চাইছে আলোচনায় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গের ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে। অন্যদিকে, বাণিজ্য প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের বিশাল বিনিয়োগের দিকটি ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। ইরান নিয়ে দুই নেতার আলোচনার দিকেও অনেকের দৃষ্টি নিবদ্ধ হচ্ছে। জাপান সরকারের একটি মহল কিছুদিন আগে আভাস দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসে তেহরান সফরে যেতে পারেন।

default-image

এই সফর নিয়ে শুরু থেকেই ট্রাম্প আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। টোকিওর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর বিমান থেকে পাঠানো এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাপানের মহামান্য সম্রাটকে সম্মান জানানোর অপেক্ষায় আমি আছি।’ এর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জাপানে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সারা বিশ্বের সকল দেশের মধ্যে থেকে একমাত্র আমি যোগ দিতে যাচ্ছি।’ জাপানে তিনি তাঁর বন্ধু শিনজো আবের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে মতামত বিনিময় করবেন বলেও টুইটবার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।

গত শনিবার ট্রাম্প জাপান পৌঁছান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন