default-image

পাকিস্তানের ইসলামাবাদের জরাজীর্ণ একটি চিড়িয়াখানায় বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছিল এশিয়ান প্রজাতির কাভান নামের একটি পুরুষ হাতি। তার কোনো সঙ্গীও ছিল না সেখানে। সবচেয়ে ‘নিঃসঙ্গ হাতি’ হিসেবে পরিচিতি পায় প্রাণীটি। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জোর দাবি আসে, হাতিটিকে সঙ্গীর ব্যবস্থা করা হোক, দেওয়া হোক মুক্ত পরিবেশ। অবশেষে হাতিটি নতুন আবাসস্থল ও নতুন জীবন পেয়েছে। শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া প্রাণীটির বর্তমান বাসস্থল কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত বন্য প্রাণী অভয়াশ্রম।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, পাকিস্তান থেকে উড়োজাহাজে করে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয় হাতিটিকে। স্থানীয় সময় সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কম্বোডিয়ায় পৌঁছায় হাতিটি। তাকে সাদরে গ্রহণ করা হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা প্রাণীটির জন্য মঙ্গল কামনা করেন। দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হয় হাতিটির চিত্র। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা অনেক কর্মীও হাতিটির নতুন জীবনপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

কম্বোডিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নেথ ফেকাত্রা বলেন, কাভানকে স্বাগত জানাতে পেরে তাঁর দেশ খুবই খুশি। প্রাণীটিকে আর নিঃসঙ্গ থাকতে হবে না।

default-image
বিজ্ঞাপন

প্রাণীটিকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে আসেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও গায়িকা চের। চের ছাড়া আরও অনেক তারকা কাভানকে স্বাগত জানান।

মাত্র এক বছর বয়সে কাভানকে শ্রীলঙ্কা থেকে ইসলামাবাদের মারগাজার চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। ৩৫ বছর ধরে নিম্নমানের ওই চিড়িয়াখানায়ই ছিল হাতিটি। ২০১২ সালে সঙ্গী মারা যাওয়ার পর সে একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ৩৬ বছর বয়সী কাভানকে মুক্ত করতে বিশ্বজুড়ে প্রচারণা শুরু হয়। ওই প্রচারণায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মার্কিন গায়িকা চের। হাতিটিকে মুক্ত করতে পাকিস্তানের আদালতে মামলাও হয়। গত মে মাসে আদালত ওই চিড়িয়াখানার সব প্রাণীকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

default-image

মুক্ত হাতিটিকে একনজর দেখতে চের পাকিস্তানে চলে যান। এরপর প্রাণীটিকে স্বাগত জানাতে ইসলামাবাদ থেকে উড়াল দেন কম্বোডিয়ায়। অস্কারজয়ী চের সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কম্বোডিয়ার সিম রিপ শহরের একটি বিমানবন্দরে নামেন, দেশটিতে কাভানকে স্বাগত জানান।

পরে চের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত যে প্রাণীটি এখন এখানে। এখানে সে আসলেই ভালো থাকবে। এখন কাভান যে বন্য প্রাণী অভয়াশ্রমে থাকবে, সেখানে পাবে উন্মুক্ত ও বিস্তৃত জায়গা। সেই সঙ্গে সে অন্য হাতিদের সঙ্গে থাকতে পারবে।’

মন্তব্য করুন