default-image

নিজ দেশে তৈরি দ্বিতীয় করোনার টিকার পরীক্ষা শিগগিরই শুরু করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের টিকাটির নাম রাজি কোভ-পার্স। তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ রোববার টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাজি কোভ-পার্স টিকাটি তৈরি করেছে রাজি ভ্যাকসিন অ্যান্ড সেরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় শত বছরের পুরোনো।

ইরানের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের মুখপাত্র কিয়ানুশ জোহানপুর বলেছেন, টিকাটি প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ধাপে ১৩০ জনে স্বেচ্ছাসেবীকে দেওয়া হবে। এটি মূলত মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএভিত্তিক টিকা। এতে নিরীহ ভাইরাস স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ইনজেকশন ও ইনহেলার আকারে ব্যবহারের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফল জানা গেলে চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষার প্রটোকল তৈরি করা হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নার টিকা তৈরিতেও এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি বলেছেন, রাজি কোভ-পার্স টিকাটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম। টিকা গ্রহণকারীর কাছে থেকে অন্যদের সংক্রমণ ঠেকাতেও সক্ষম এ টিকা।

দেশটির কৃষিমন্ত্রী কাজেম খাভাজি বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস আগে টিকাটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা শুরু হয়। এটি ৫০০ প্রাণীর দেহে পরীক্ষা করা হয়েছে।’

ইরানের দ্বিতীয় টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর ঘোষণার দিনেই দেশটির প্রথম টিকা ‘কোভইরান বারেকাতের’ প্রথম ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। টিকাটি দেশটিতে সরকারি কর্মকর্তাসহ ৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবীকে দেওয়া হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে দুই ডোজের টিকাটি দেওয়া শুরু হয়। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে টিকাটির প্রথম ধাপের পরীক্ষার ফল জানা যাবে।

বারেকাত প্রকল্প পরিচালনাকারী সেতাদের মিডিয়া প্রধান হোজ্জাত নিকি মালেকি বলেন, তাঁদের টিকাটি আরব অঞ্চলের দুটি দেশ কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। অবশ্য দেশ দুটির নাম বলেননি তিনি।

ইরান নিজস্ব টিকা উৎপাদনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিদেশি টিকাও আমদানি করছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে রাশিয়ার স্পুতনিক–ভি টিকাটির ১০ হাজার ডোজের চালান পৌঁছেছে। দেশটিতে রাশিয়ার টিকা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। ইরানে মঙ্গলবার থেকে দেশটির সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছে ইরান। দেশটিকে ১৪ লাখের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং করোনা সংক্রমিত হয়ে সেখানে মারা গেছেন ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন