default-image

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের স্বার্থের ওপর আরও হামলা হতে পারে। ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সিরিয়া থেকে রকেট হামলা চালানোর কয়েক দিন পর আজ রোববার এই হুমকি দিলেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ বাঘেরি বলেন, ইসরায়েল মনে করে, কোনো পরিণতি ছাড়াই তারা সিরিয়ার ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে ও সাগরে হামলা চালাতে পারে। তবে এই রকম হামলা দেশটির জন্য সুখকর হবে না বলেও ইসরায়েলকে স্মরণ করিয়ে দেন ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন,‘  নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে পুনারাবৃত্তি হলে তাদের (ইসরায়েল) স্বার্থ বিপন্ন হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রমকে সরাসরি প্রতিরোধ করার বিষয়টি বাড়বে।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনা সফল হলে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে। এ আলোচনা শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

চলতি মাসেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে বৈদ্যুতিক গোলযোগ দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি সেন্টিফিউজ। এ ঘটনার পেছনে ইসরায়েল জড়িত বলে অভিযোগ তেহরানের। প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে ওই সময় জানিয়ে দেয় ইরান।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে সিরিয়ার ভূমি থেকে ইসরায়েলের দিমোনা এলাকার একটি পারমাণবিক চুল্লির স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ছোঁড়া হয়েছিল। রকেটটি চুল্লির পাশে গিয়ে পড়ে। তবে পাশে হামলার পেছনে কে বা কারা জড়িত, সেই বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি বাঘেরি। তবে ইহুদি রাষ্ট্রটির ওপর প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকেরা বাঘেরির কাছে জানতে চান, যদি ইরানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একের পর এক হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে তেহরান কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে? এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি বাঘেরি। শুধু বলেন, ‘ইহুদি রাষ্ট্রটিকে নিশ্চিন্তে থাকতে দেওয়া হবে না।’

এ দিন ইরানের সেনাবাহিনীর নতুন সাতটি সামরিক ‘অর্জন’ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শত্রুপক্ষের রাডার শনাক্ত ও তার কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী কয়েক ধরনের স্থলভিত্তিক ও ড্রোনচালিত অভিযান রয়েছে।

এদিকে গত শনিবার সিরিয়ার একটি জ্বালানি পরিশোধন কেন্দ্রের পাশে তেলের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি। তবে জ্বালানি তেলবাহী এ ট্যাংকারটি ইরানের কিনা তা জানানো হয়নি। নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনার পাশে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সিরিয়ার ভূখণ্ডে তেলের ট্যাংকারে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন