default-image

সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বা একঘরে করে দেয়, তাহলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। গতকাল বুধবার জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি জানান। দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা। খবর রয়টার্সের।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার বলেন, মিয়ানমারে গতকাল  বুধবার বিক্ষোভের সময় গুলিতে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর চলমান বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে সবচেয়ে সহিংস দিন ছিল এটি।

আগামীকাল শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার বিষয়ে ব্রিফ করবেন শ্রেনার বার্গেনার। যুক্তরাজ্যের ডাকে এদিন নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি এবং দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। নভেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় এনএলডি। সেনাবাহিনী দাবি করে, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোট ছিল সুষ্ঠু।

জাতিসংঘ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এ সময় তিনি সোয়ে উইনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিছু দেশের শক্ত পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে এবং তারা বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ দূত বলেন, ‘তার (সোয়ে উইন) উত্তর ছিল, ‘‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন সতর্ক করলাম, তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে, তার উত্তর ছিল ‘‘অল্প কিছু বন্ধুর সঙ্গেই আমাদের চলতে শিখতে হবে।’’

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তার ব্যবসায়িক মিত্রদের চাপ দিতে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা দেওয়ার বিবেচনা করছে।

এ ছাড়া মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে রাশিয়া এবং চীনের আপত্তির মুখে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাতে পারেনি। ঘটনাগুলোকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে দেশ দুটি।

রাশিয়া ও চীনের উদ্দেশে শ্রেনার বার্গেনার বলেন, ‘আমি আশা করি, তারা এটাকে শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখবে না, এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন