default-image

সাবেক গেরিলা ও মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল নেপালের ৩৯তম প্রধানমন্ত্রী হলেন। ‘প্রচণ্ড’ নামে বেশি পরিচিতি পাওয়া এই নেতা দেশটির সাংবিধানিক গণপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন গতকাল বুধবার। এবার দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি।
হিমালয়ের দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মাওবাদী সশস্ত্র লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন প্রচণ্ড। ২০০৬ সালে সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরে মাওবাদীরা। দীর্ঘ সময় ধরে নেপালে চলছে রাজনৈতিক সংকট। গত বছর দেশটিতে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর এই সংকট চরম আকার ধারণ করে। দেশটির সমতলের মদেশীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সংবিধান পরিবর্তনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। তাদের সহিংস বিক্ষোভে প্রাণ হারান ৫০ জনেরও বেশি লোক। এরই মধ্যে দেশটিতে মাওবাদীদের সমর্থনে ক্ষমতায় আসে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (মাওবাদী-লেনিনবাদী সংযুক্ত) নেতা কে পি সিং অলি। তবে তিনি মদেশীয়দের বিক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হন। এর জন্য গত মাসের শেষ নাগাদ অলি সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে মাওবাদীরা। পরে আস্থা ভোটের ব্যবস্থা হলে তার আগেই অলি পদত্যাগ করেন। ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন এবং সংবিধান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রচণ্ড।
গতকাল পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের পর প্রচণ্ড বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধানের দায় আমার। দেশের মানুষকে একতাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমি। আমি মনে করি, দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ রচনার জন্যই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ নেপালের পার্লামেন্টের ৫৯৫ সদস্যের মধ্যে গতকাল ভোট দেন ৫৭৩ জন। এর মধ্যে প্রচণ্ড পান ৩৬৩ ভোট। এ দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রচণ্ড পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল নেপালি কংগ্রেসের সমর্থন পেয়েছেন। এর পাশাপাশি মদেশি এবং জনজাতিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর জোট ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক মদেশি ফ্রন্টেরও (ইউডিএমএফ) সমর্থন পান তিনি। প্রধানমন্ত্রী পদে তিনিই ছিলেন একমাত্র প্রার্থী। ২০০৮ সালে প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নয় মাস ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। নেপালের তৎকালীন সেনাপ্রধান রুকমাঙ্গাত কোতোয়ালের বিতর্কিত বরখাস্তের সিদ্ধান্তের পরই ২০০৯ সালের ৪ মে প্রচণ্ড পদত্যাগ করেন। প্রচণ্ড নেপালের প্রথম কমিউনিস্ট নেতা, যিনি দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হলেন।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন