গত শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়লে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোথায় রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীরা পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও অবস্থান নেন।

এদিকে বিক্ষোভ জোরালো হলে শনিবারই রাজাপক্ষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেও বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণে সরকার গঠন হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। এরপরও এখনো বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসবভনে অবস্থান করছেন। বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, এই দুই নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত দুই বাসভবন ছাড়বেন না তাঁরা।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার পর, বিক্রমাসিংহে সংসদে প্রায় ১১৫টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকারী। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য তাঁকে দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে এবং প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করার এবং অর্থনৈতিক সংকটের মাঝপথে হাল ছেড়ে না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। বিশেষ করে এখন যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা চলমান।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে পদত্যাগ করার পর একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক দলগুলো গতকাল বৈঠকে বসেছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে পদত্যাগ করার পর সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে।

শ্রীলঙ্কায় রিজার্ভসংকট দেখা দেওয়ার পর জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। এ ছাড়া ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সংকটও দেখা দেয় দেশটিতে। এর জেরে শ্রীলঙ্কাজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভ থেকে দাবি জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর মাহিন্দা রাজাপক্ষে গত মে মাসে পদত্যাগ করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন