জ্বালানি, ওষুধ, খাবারের ঘাটতি নিয়ে গত মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন আরও তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন, ‘গোতাবায়া ক্ষমতা ছাড়।’ এ নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে দেশটির সড়কমন্ত্রী জনস্টন ফার্নান্ডো বলেন, ‘আপনাদের কি স্মরণ করিয়ে দেব ৬৯ লাখ মানুষ প্রেসিডেন্টকে ভোট দিয়েছিলেন। সরকার হিসেবে আমরা পরিষ্কার করে বলছি, কোনো পরিস্থিতিতেই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করবেন না। আমরা এর মোকাবিলা করব।’

ফার্নান্ডোর বক্তব্যের পর কলম্বোয় ২০০ জনের বেশি চিকিৎসক সড়কে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাঁদের কাছে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জনগণের বাঁচার অধিকারকে শক্তিশালী করুন। স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন।’

এদিকে গোতাবায়া রাজাপক্ষের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে ভারত ও চীনের কাছ থেকে নেওয়া আর্থিক সমর্থন দেশটির চলমান ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া বিক্ষোভ থামাতে ভারত থেকে নেওয়া ঋণ কোনো কাজে আসেনি।

এদিকে একসময়ের প্রতাপশালী ক্ষমতাসীন জোট আইনপ্রণেতাদের একের পর এক পদত্যাগে অস্বস্তিতে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার নতুন অর্থমন্ত্রীও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে আরও অস্বস্তি বেড়েছে প্রেসিডেন্টের। প্রেসিডেন্টের ভাই বাসিল রাজাপক্ষেকে সরিয়ে গত সোমবার সাবেক বিচারমন্ত্রী আলী সাবরিকে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

কিন্তু এক দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। সাবরি বলেছেন, ‘সৃষ্ট অসুবিধার জন্য দুঃখিত। আমি বিশ্বাস করি সর্বদা দেশের সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করেছি। দেশের এই আর্থিক অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে আরও দক্ষ লোকের প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে নতুন করে সাহায্য চাইছে শ্রীলঙ্কা। সংস্থাটির সঙ্গে বৈঠকের আগেই নতুন অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

সংকট নিরসনে গোতাবায়া সর্বদলীয় সরকার গড়তে চেয়েছিলেন। গত সোমবার সরকারে এসে মন্ত্রিত্ব নেওয়ার জন্য সব দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে গোতাবায়া ও তাঁর ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বদলীয় সরকার গঠনের এ আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি বিরোধী দলগুলো।

এদিকে আজ বুধবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, সামনে আরও কঠিন দিন আসছে। দেশের অর্থনৈতিক সংকটে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের অনাহারে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও তীব্র জ্বালানি ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ-সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধন ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দুর্দশার বিষয়ে দুই দিনের বিতর্কের শুরুতে বলেছিলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, এটি সবচেয়ে খারাপ সংকট, কিন্তু আমি মনে করি, এটি কেবল শুরু।’

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন