default-image

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চাঞ্চল্যকর খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার রায়ে চার জঙ্গির সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার জেলা ও দায়রা আদালতে গড়া বিশেষ এনআইএর আদালতের বিচারক দণ্ডপ্রাপ্ত সবার পাঁচ হাজার রুপি করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের দণ্ড দেন।

জঙ্গিরা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে দাবি করে কলকাতার পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গতকাল এনআইএর বিশেষ আদালতের বিচারক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস এই আদেশ দেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়া এই চার জঙ্গি হলেন মহম্মদ ইউনিস, মতিউর রহমান, জিয়াউল হক ও জহিরুল শেখ।

এর আগে এই মামলায় অভিযুক্ত ৩৪ জঙ্গির মধ্যে দুই নারীসহ ২৬ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এখন সব মিলিয়ে দোষ স্বীকার করা জঙ্গির সংখ্যা ৩০ জন। গতকাল দণ্ডপ্রাপ্ত চারজন কারাবন্দী কলকাতার প্রেসিডেন্সি কারাগারে। এখনো বিচারাধীন চারজন জেল হেফাজতে রয়েছেন। বাকি একজন পলাতক। এই মামলার তদন্ত সংস্থা এনআইএ ইতিমধ্যে পলাতক এক জঙ্গি বাদে ৩৩ জন জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। যে জঙ্গি পলাতক, তাঁর নাম সালাউদ্দিন সালেহান। তিনি জেএমবির আন্তর্জাতিক শাখার প্রধান বলে দাবি কলকাতা পুলিশের।

বিজ্ঞাপন

ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা বলেছেন, সালাউদ্দির ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে ‘সম্পূরক চার্জশিট’ দাখিল করে তাঁকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। আত্মসমর্পণ করা জঙ্গিদের মধ্যে চারজন জেএমবির সদস্য।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে খাগড়খড়ের একটি বাড়িতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। তারপরই প্রকাশ হয়ে পড়ে ওই বাড়ি ছিল জেএমবির পশ্চিমবঙ্গের ঘাঁটি। ওখানেই তৈরি হতো গ্রেনেড ও বোমা। এখানে নিয়মিত আসত জেএমবির জঙ্গিরা। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে জেএমবির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য এখানে গড়া হয় এই জেএমবির ঘাঁটি।

মন্তব্য করুন