default-image

পাকিস্তানের একটি উড়োজাহাজ জব্দ করেছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটির ইজারাসংক্রান্ত একটি মামলা যুক্তরাজ্যের আদালতে চলমান রয়েছে।

এই মামলার জেরেই উড়োজাহাজটি জব্দ করা হয়। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বিষয়টি তারা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে চাইছে।

পাকিস্তানি ওই এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি জব্দ করা হয়। এরপর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে পাকিস্তানগামী উড়োজাহাজটির যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজটির ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের ইজারাসংক্রান্ত মতবিরোধ নিয়ে মামলাটি চলছে।

পিআইএ মুখপাত্র আবদুল্লাহ এইচ খান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার স্থানীয় একটি আদালতে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে উড়োজাহাজটি জব্দ করেছে। এ নিয়ে পিআইএর সঙ্গে আরেকটি পক্ষের মামলা যুক্তরাজ্যের আদালতে চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরে জানানো হয়, আদালতের আদেশে উড়োজাহাজটিকে জব্দ করা হয়েছে।

পিআইএর আইনজীবীরা মালয়েশিয়ার আদালতে বিষয়টি মোকাবিলা করছেন। আশা করছি, শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে।’

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরের পরিচালক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস বেরহাদ বলেছে, তাদের কাছে আদালতের নির্দেশ রয়েছে, পাকিস্তানের উড়োজাহাজটি যেন কুয়ালালামপুর ছাড়তে না পারে।

মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ২৪ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তার আগপর্যন্ত উড়োজাহাজটি মালয়েশিয়ায় থাকবে।

পিআইএর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বিবৃতিতে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে উড়োজাহাজ চালাতে না পারায় পিআইএ এরই মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি লোকসান হয়েছে। গত মে মাসে আবার কার্যক্রম শুরুর পর পিআইএর একটি উড়োজাহাজ করাচিতে বিধ্বস্ত হয়ে ৯৭ জন নিহত হন।

এ ছাড়াও ভুয়া লাইসেন্স কেলেঙ্কারিতে পড়ে পাকিস্তানের অ্যাভিয়েশন খাত ব্যাপক দুর্নাম কুড়িয়েছে। অনেক দেশ পিআইএর ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন