default-image

পাকিস্তানে সন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন লাহোরের একটি বিশেষ আদালত। গতকাল শনিবার এ রায় দেওয়া হয়। আজ রোববার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবিদ মালহি ও শাফকাত আলী বাগা।

গত সেপ্টেম্বরে দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন পাকিস্তানি–ফরাসি এক নারী। পথে গাড়ির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় লাহোরের একটি মহাসড়কে আটকে পড়েন তাঁরা। এ সময় ওই দুই আসামি গাড়ির গ্লাস ভেঙে মা ও সন্তানদের কাছ থেকে অর্থ এবং অলংকার ছিনিয়ে নেন। পরে সড়কের পাশে নিয়ে গিয়ে সন্তানদের সামনে ওই নারীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান তাঁরা।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায় সাহায্য চেয়ে আত্মীয়দের কাছে ফোন দেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।লাহোর পুলিশ তখন জানিয়েছিল, ওই নারীকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এরপরও হামলাকারীদের বিষয়ে মৌলিক কিছু বিবরণ দিতে সমর্থ হন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে জোরালো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ধর্ষণের শিকার হওয়ার জন্য ওই নারীকেই দোষারোপের চেষ্টা করেন লাহোরের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা উমর শেখ। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ব্যস্ততম সড়ক বাদ দিয়ে ওই নারী কেন জনমানবহীন সড়ক দিয়ে যেতে গেলেন। গাড়িতে জ্বালানি আছে কি না, তা যাত্রা শুরুর আগে পরীক্ষা করে দেখা দরকার ছিল।

গত সেপ্টেম্বরে দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন পাকিস্তানি–ফরাসি এক নারী। পথে গাড়ির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় লাহোরের একটি মহাসড়কে আটকে পড়েন তাঁরা। এ সময় ওই দুই আসামি গাড়ির গ্লাস ভেঙে মা ও সন্তানদের কাছ থেকে অর্থ এবং অলংকার ছিনিয়ে নেন। পরে সড়কের পাশে নিয়ে গিয়ে সন্তানদের সামনে ওই নারীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান তাঁরা।

পুলিশ কর্মকর্তার ওই মন্তব্যের জেরে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পাকিস্তানের নারীসমাজ। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ধর্ষণের ঘটনাটির বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন