শীর্ষস্থানীয় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘ভোরের আলো ফোটার আগে এক অভিযানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কমপক্ষে ১০টি পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল।’

মাহিন্দা রাজাপক্ষকে অজ্ঞাতনামা স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগের দিন দেশটিতে সহিংস বিক্ষোভে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আইনপ্রণেতাও রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের কবলে পড়ে তিনি নিজ গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিক্ষোভে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ ঠেকাতে তিনটি ফটকেই বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। ঔপনিবেশিক আমলের ভবনটিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতীক বিবেচনা করা হয়।

গত শুক্রবার থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বিক্ষোভের লাগাম টানতে এরপর জারি করা হয় কারফিউ। এরই মধ্যে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে রাজাপক্ষের অনুগতদের কয়েক ডজন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামবানটোটায় রাজাপক্ষের পৈতৃক বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।

সোমবার নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পরিবারের সমর্থকদের হামলায় উসকানি দেওয়ার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেন বিক্ষোভকারী ও দেশটির ধর্মীয় নেতারা। এর জেরেই মূলত পাল্টা হামলা শুরু হয়।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। এ পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

অচলাবস্থা নিরসনে গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাহিন্দা রাজাপক্ষকে পদত্যাগ করতে বলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া সম্পর্কে মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছোট ভাই। এক যুগ আগে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতাকামী তামিল টাইগারদের দমন করে দেশটিতে রাজাপক্ষে পরিবারের আধিপত্য তৈরি করেছিলেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

মাহিন্দা রাজাপক্ষের পদত্যাগ সময়ের ব্যবধানে একই ব্যক্তির ভিন্ন দুই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার চিত্রকে সামনে এনেছে। বছরের পর বছর ধরে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তামিলদের বিদ্রোহ দমনের পর মাহিন্দা রাজাপক্ষের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। এই বিদ্রোহ দমনে তাঁর বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন