default-image

নির্বাচিত হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রথম বিদেশ সফরে ভারতকেই বেছে নিলেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছান। খবর এপির।
নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো রাখঢাক না রেখেই সিরিসেনা বলেছিলেন, পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর অগ্রাধিকার হবে নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন। প্রথমে ভারত সফরের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। সিরিসেনা ভারতের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে প্রক্রিয়াধীন নানা প্রকল্প পুনর্বিবেচনার কথাও বলেন। তবে ভারত সফরের পরপরই তাঁর চীন সফর করার কথা রয়েছে।
আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হবে। তিনি দুই দিনব্যাপী শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন।
সিরিসেনার সফরে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন হবে মূল কাজ। দুই দেশের মধ্যে এখন ১০০ কোটি ডলারের ব্যবসা হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সিরিসেনার আলোচনায় শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়া অন্যতম প্রধান বিষয় হবে। দেশটির তামিল সংখ্যালঘুরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। দেশটির তামিল-অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড খুব কমই হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ নাজুক হয়ে পড়ে। পর্যবেক্ষকেরা বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চীনের নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাকে ভারত ভালোভাবে নেয়নি। পাশের দেশে প্রভাব কমে যাওয়ার চিন্তা ছিল দেশটির। অন্যদিকে নিজের সমুদ্রসীমায় দুটি চীনা সাবমেরিন ভিড়তে দিয়ে ভারতের বিরাগভাজন হয় শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার অবকাঠামো খাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আগ্রহও ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছে।
গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিরিসেনা তাঁর একসময়ের নেতা মাহিন্দা রাজাপক্ষকে হারিয়ে দেন। নির্বাচনের কিছুদিন আগে রাজাপক্ষের দল থেকে বেরিয়ে যান মন্ত্রী সিরিসেনা। তাঁর নির্বাচনে নামার পেছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কথিত ভূমিকা নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হয়।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন