বিজ্ঞাপন

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সংস্কারবাদী সরকারের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। বিরোধী আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের সঙ্গে জোট বেঁধে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন মাহাথির। এক বছর দায়িত্ব পালনের পর আনোয়ারের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মাহাথির পদত্যাগ না করায় জোটে ফাটল ধরে। মাহাথির সরকারের পতনের পর কোনো নির্বাচন ছাড়াই বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন মাহাথিরের দলের উপপ্রধান মুহিদ্দিন ইয়াসিন। তবে মাহাথিরের সমর্থন মুহিদ্দিন পাননি। তাঁকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করেন মাহাথির। ফলে মুহিদ্দিনের সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর রাজার সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনপ্রণেতার সমর্থনের তথ্য তুলে ধরেন বিরোধী দল পিপলস জাস্টিস পার্টির নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। এরপর গত শুক্রবার মুহিদ্দিন জরুরি অবস্থা জারি করতে রাজাকে অনুরোধ জানান্। জরুরি অবস্থা জারি হলে পার্লামেন্ট স্থগিত থাকবে। ফলে মুহিদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ করে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির সুযোগ আর থাকবে না। সমালোচকেরা বলছেন, পূর্বসতর্কতার অংশ হিসেবে ক্ষমতায় থাকতেই জরুরি অবস্থা জারির মতো ‘কূটচাল’ চেলেছেন মুহিদ্দিন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিনের জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব এমন এক সময় এল, যখন নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং মহামারির কারণে দেশটির নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারের ২০২১ সালের বাজেট পাসের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি হলে প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত ক্ষমতা পেতেন। জরুরি অবস্থা জারিকালে পার্লামেন্টের অনুমতি বা প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করতেই মুহিদ্দিন জরুরি অবস্থা জারি করতে চাইছেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন