বিজ্ঞাপন

রকেট ছোড়ার ভিডিও সিরিয়ার, গাজার নয়

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র অফির গেনডেলম্যান টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, গাজার ঘনবসতির এলাকা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করছে হামাস। তাদের ছোড়া ২৫০–এর বেশি রকেটের এক–তৃতীয়াংশ গাজায় পড়ে ফিলিস্তিনিরা নিহত হয়েছে।

কিন্তু এই ভিডিও আগের এবং তা গাজার নয়, সিরিয়া থেকে রকেট নিক্ষেপের। ২০১৮ সালে দেরা শহরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর অভিযানের সময় রকেট ছোড়ার এই ভিডিও ধারণ করা হয়।

টুইটার কর্তৃপক্ষ এই টুইটকে ‘ম্যানিপুলেটেড মিডিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফ্যাক্ট চেকে ক্লিপটি সিরীয় যুদ্ধের বলে নিশ্চিত হয়। পরে সমালোচনার মুখে গেনডেলম্যান টুইটটি মুছে ফেলেন।

‘ইসরায়েলি ফোর্সেস’–এর ভাইরাল টুইটও ভুয়া

‘আমরা হত্যা করতে ভালোবাসি’ এবং ‘মাত্রই কয়েকটি শিশুর ওপর বোমা মারলাম’, এই পোস্ট ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) দাবি করে টুইটারে সমানে সেগুলোর স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব স্ক্রিনশট ভুয়া। বিনা মূল্যে অনলাইনে পাওয়া যায় এমন টুল ব্যবহার করেই এসব স্ক্রিনশট তৈরি করা যায়।

ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সেস তাদের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোথাও এসব বক্তব্য দেয়নি।

যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া টুইটগুলো এসেছে, সেগুলো ছিল ফিলিস্তিনি সমর্থক। ইসরায়েলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো এসব অ্যাকাউন্টধারী নিজেদের স্যাটায়ার লেখক দাবি করেছেন।

‘ভুয়া শবযাত্রার’ ভিডিও গাজার নয়

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব অনেক ইসরায়েলি এর মধ্যে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, এই ভিডিওতে দেখা গেছে, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন দাবি করে ফিলিস্তিনিরা তার ভুয়া শবযাত্রা করছিল বিশ্ববাসীর সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে।

default-image

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উপদেষ্টাও ওই ভিডিও শেয়ার করেন। তাতে দেখা যায়, একদল তরুণ কাঁধে করে কাফনে মোড়ানো একজনের শবদেহ বয়ে নিচ্ছে যাচ্ছেন। হঠাৎ সাইরেনের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা শবদেহ নিচে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। তখন একা পড়ে থাকা দেহটিও উঠে কাফনের কাপড় সরিয়ে হাঁটা শুরু করে।

বিবিসি বলছে, একই ভিডিও ২০২০ সালের মার্চে পোস্ট করা হয়েছিল। তখন খবর বেরিয়েছিল, কোভিড-১৯ রোধে দেওয়া বিধিনিষেধ এড়ানোর কৌশল হিসেবে জর্ডানের একদল তরুণ ভুয়া শবযাত্রার অভিনয় করেছিলেন।

গাজায় ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান থেকে ফেলা বোমায় যখন শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে, সেই সময়ে এই ভিডিও প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে কয়েক শ বার শেয়ার করেছেন ইসরায়েলি আগ্রাসনের সমর্থকেরা। এই পোস্টগুলোতে ‘প্যালিউড’ (প্যালেস্টেনিয়ান হলিউড) হ্যাশট্যাগ দিয়েছেন তাঁরা।

ভিডিওর আগুন আল-আকসা মসজিদের নয়

কিছু ফিলিস্তিনি সমর্থক একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছেন, পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ পুড়ছে। মুসলিমদের কাছে পবিত্র এই মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

default-image

ভিডিওটি বাস্তব। কিন্তু অন্য পাশ থেকে নেওয়া ফুটেজে এটা পরিষ্কার যে মসজিদ নয়, পাশের একটি গাছে আগুন লেগেছে।

জেরুজালেমের পুরোনো নগরীতে এই মসজিদ কমপ্লেক্স মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। এটা ইহুদিদেরও পবিত্র স্থান। এখানেই তাদের টেম্পল মাউন্ট।

ভিডিওতে ওয়েস্টার্ন ওয়ালের পেছনে অবস্থানরত একদল তরুণ ইহুদি ইসরায়েলিকে ফিলিস্তিনবিরোধী স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাঁদের একটু দূরেই আগুনের শিখা উঠতে দেখা যায়।

এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

default-image

ইসরায়েলি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ছোড়া আতশবাজি থেকে এটা ঘটেছিল। অপর দিকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তাদের ছোড়া স্টান গ্রেনেড থেকে এ আগুন লাগে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভাষ্যমতে, আগুন লাগা গাছটি ছিল মসজিদ থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে। কিছুক্ষণ পরে আগুন নিভে যায় এবং তাতে মসজিদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ভিডিওর ক্ষেপণাস্ত্র গাজার রাস্তায় নয়

এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থীদের আরেকটি টুইট ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। একটি ভিডিও ফুটেজ–সংবলিত টুইটে দাবি করা হয়, গাজার রাস্তায় ট্রাক-বেসড ক্ষেপণাস্ত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র গ্রুপ হামাস। ভিডিওতে একটি শিশুকেও কথা বলতে শোনা যায়।

পোস্টদাতা ওই ইসরায়েল সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘আরও একবার আমরা দেখছি, ইহুদিদের হত্যা করার জন্য হামাস বেসামরিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।’

default-image

বিবিসি বলছে, ভিডিওটি ফেসবুকে প্রথম আপলোড করা হয় ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর। সেখানে ক্যাপশনে লেখা ছিল, ইসরায়েলের গ্যালিলির আবু সান শহর থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

ওপেন সোর্স অনুসন্ধানে বিশেষায়িত ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বেলিংকাটের গবেষক এরিক টোলের বিবিসিকে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের ডামিগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মহড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তাঁর ধারণা।

পরে টুইটার থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। ‘ভুল তথ্যের’ জন্য ক্ষমাও চাওয়া হয়।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন