গতকাল শুক্রবার মাইথ্রিপালা সিরিসেনার বরাতে শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, গোতাবায়া রাজাপক্ষে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনে সম্মত হয়েছেন। একসময় ক্ষমতাসীন জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিল মাইথ্রিপালার দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি। তবে রাজাপক্ষের নীতিমালার প্রতিবাদে দলটি জোট থেকে বের হয়ে যায়। আইনপ্রণেতা ভিরাসুমানা ভিরাসিংহে বলেন, অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে রাজাপক্ষে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি।

আগামী ৪ মে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু কথা রয়েছে। তাঁর আগেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন রাজনীতিবিদেরা। বিরোধী দলগুলোর দাবি, অনাস্থা ভোটের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের জন্য যথেষ্ট সমর্থন তাদের পক্ষে আছে।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সব রাজনৈতিক দল যদি যেসব প্রস্তাব সমর্থন করে, সেগুলোতে প্রেসিডেন্টও সম্মতি দেবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কম। এ জন্য জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না দেশটি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। মূল্যস্ফীতি মাত্রা ছাড়িয়েছে। বাজারে পণ্য নেই। তাই কারফিউ উপেক্ষা করে মানুষ রাস্তায় রাস্তায় স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে নেমেছে। শ্রীলঙ্কার সেনসাস অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে ভোগ্যপণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

জরুরি পণ্য আমদানির মূল্য পরিশোধের জন্য আগামী আট মাসে শ্রীলঙ্কার চার শ কোটি ডলার প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ফরাসি ঋণ পরিশোধ স্থগিত রেখেছে। ভারত, চীন ও বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা চাইছে তারা।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন