বাগদাদির সন্ধান পাওয়া যায় সহযোগীর মাধ্যমে

বিজ্ঞাপন
default-image

আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল–বাগদাদিকে ধরতে হন্যে হয়ে খুঁজছিল বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু কিছুতেই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিল না তারা। তবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ওই সময় বাগদাদির শীর্ষ সহযোগী ইসমাইল আল-ইথাবি গ্রেপ্তার এড়াতে আইএস প্রধানের আত্মগোপনের কৌশল সম্পর্কে ইরাকের গোয়েন্দা বাহিনীকে জানান। সেই সূত্র ধরেই ইরাকি গোয়েন্দারা বাগদাদির অবস্থান শনাক্ত করেন। গতকাল সোমবার এসব তথ্য জানান ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

 ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আগে কোনো এক সময় ইথাবিকে আটক করে তুরস্কের বাহিনী। পরে ইরাকের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়। ইথাবি তুরস্কের কর্মকর্তাদের বলেন, আত্মগোপনে থাকা বাগদাদি মাঝেমধ্যেই শাকসবজিভর্তি চলন্ত মিনিবাসে বসে অনুসারীদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা সারতেন।

ইরাকি ওই দুই কর্মকর্তার একজন বলেন, বাগদাদির চলাচলের ধরন ছিল ধাঁধার মতো। তিনি এক জায়গায় থাকতেন না। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ সরে যেতেন। ইরাকের গোয়েন্দা দলগুলো সেই ধাঁধার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় ইথাবির দেওয়া তথ্য থেকে।

>আইএস প্রধান বাগদাদির পাঁচ শীর্ষ সহযোগীর একজন ইথাবি।
ইথাবির দেওয়া তথ্যই পথ দেখিয়েছে গোয়েন্দাদের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের একটি গ্রামে মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে গিয়ে আত্মঘাতী হন বাগদাদি। তাঁর সঙ্গে নিহত হয় তাঁর তিন সন্তানও।

ইসলামিক সায়েন্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়া ইথাবিকে বাগদাদির পাঁচ শীর্ষ সহযোগীর একজন বলে মনে করে ইরাকি বাহিনী। তিনি ২০০৬ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আল–কায়েদায় যোগ দেন। ইরাকি বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে মার্কিন বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর চার বছর কারাগারে ছিলেন ইথাবি। পরে তিনি আইএসে যোগ দেন। ২০১৭ সালে আইএসের রাজত্বের বেশির ভাগ পতন হলে তিনি সস্ত্রীক সিরিয়ায় পালান। এরপর তুরস্কের বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাগদাদি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানান গোয়েন্দাদের। এরপর মুক্তি পেয়ে আবারও আত্মগোপনে চলে যান।

চার ইরাকি, এক সিরীয় নাগরিকসহ আইএসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা বাগদাদির পতনের পটভূমি তৈরির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। ইরাকি কর্মকর্তাদের একজন বলেন, বাগদাদির সঙ্গে সিরিয়ার ভেতর কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন, তা জানান গ্রেপ্তার হওয়া ওই আইএস নেতারা।

ইরাকি ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই সময় ইদলিবের একটি বাজারে পাগড়ি পরা ইরাকের এক ব্যক্তিকে দেখতে পান তাঁদের তথ্যদাতারা। পরে তাঁরা ছবির সঙ্গে চেহারা মিলিয়ে দেখেন, ওই লোক ইথাবি। পরে গোয়েন্দা তথ্যদাতারা ইথাবিকে অনুসরণ করে তাঁর বাড়িতে যান, যেখানে বাগদাদি অবস্থান করছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুরো ঘটনা সিআইএকে জানাই। তারা পাঁচ মাস ধরে কৃত্রিম উপগ্রহ ও ড্রোন ব্যবহার করে বাগদাদির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। দুই দিন আগে বাগদাদি একটি মিনিবাসে করে পাশের একটি গ্রামে (বারিশা) গিয়ে ওঠেন। সেখানেই ছিল তাঁর শেষ অবস্থান।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন