বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল কাদিমির কার্যালয় থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ওই ড্রোন হামলার ব্যাপারে আলোচনা করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষ হওয়ার পর কাদিমির কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে চালানো ওই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি ইরাক রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো গুরুতর একটি হামলার ঘটনা।

ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদ মান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইরাকিয়াকে জানান, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে তৃতীয় ড্রোনটিকে ঠেকানো যায়নি। এটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আঘাত হানে।

গতকালের ড্রোন হামলার ঘটনায় এখনো কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।

প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল কাদিমি বলেছেন, কারা তাঁকে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তা জানা আছে এবং অচিরেই তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতেও একই রকম ইঙ্গিত দেওয়া হয়। বলা হয়, হামলাকারীদের ব্যাপারে তাদের জানা আছে। এর আগে মুস্তাফা আল কাদিমি টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে সবাইকে ‘শান্ত ও সংযত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে যখন বাগদাদজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ চলছে, তখনই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এ হামলা হলো। ইরাকে অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।

নির্বাচনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী বেশির ভাগ আসনে পরাজিত হয়েছে। এর পর থেকে ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন তাদের সমর্থকেরা। গত শুক্রবার সে বিক্ষোভে সহিংসতা হতেও দেখা গেছে। এদিন পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। গ্রিন জোন এলাকার কাছে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। সে সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। পুলিশও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছুড়েছে। বাগদাদের হাসপাতাল ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এদিন অন্তত একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত, অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যার জন্য এসব গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়ে থাকে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন