গণবিক্ষোভের মুখে ব্যাপক চাপে থাকা রাজাপক্ষে এর আগে ১ এপ্রিল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। আগের দিন রাজধানীতে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিলেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এরপর ১৪ এপ্রিল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আবারও বিক্ষোভ জোরালো হতে থাকে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর শ্রীলঙ্কা সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় রাজপথে নেমে আসে জনগণ।

আবার এমন সময় জরুরি অবস্থা জারি করা হলো, যখন রাজাপক্ষের সমুদ্রঘেঁষা কার্যালয়ের সামনে হাজারো বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়ে আছেন। গত ৯ এপ্রিল থেকে তাঁরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীদের ছোট কয়েকটি দল সরকারি দলের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকের বাড়িতেও ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছেন।

গত কয়েক দিনের মধ্যে গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত পার্লামেন্টে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতির অব্যবস্থাপনার জন্য তাঁরা রাজাপক্ষে এবং তাঁর শাসক পরিবারকে দায়ী করছেন। কয়েক মাস ধরে লোডশেডিং, খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মারাত্মক সংকট দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।

ট্রেড ইউনিয়নের ধর্মঘটের ডাকে গতকাল দেশটিতে লাখো শ্রমিক কাজে যোগদান থেকে বিরত ছিলেন। এতে ট্রেন ও রাষ্ট্রীয় বাস পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়। কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। সরকারের প্রতি ক্ষোভ জানাতে দেশজুড়ে কালো পতাকা তোলা হয়।

নিজ কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের কারণে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে বাসা থেকেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এরপরও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষকে পদত্যাগে চাপ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। দেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আনতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের অংশ হিসেবে তিনি এ পদক্ষেপ নিতে পারেন; যদিও জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ দেবে না বলে বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন